চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ অর্জনে কর্নেল তাহের সংসদের আহ্বান

৭ নভেম্বর, সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানের ৪৩তম বার্ষিকীতে গণতান্ত্রিক, সুখী, সমৃদ্ধশালী, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ অর্জনের আহ্বান জানিয়েছে কর্নেল তাহের সংসদ।

দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়ে কর্নেল তাহের সংসদের পাঠানো এক বিবৃতি এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৭ নভেম্বর, সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের ৪৩তম বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী সামরিক-বেসামরিক ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর জন-বিচ্ছিন্ন ব্যারাক আর্মির অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারায় লিপ্ত বিবদমান উচ্চাভিলাষী সেনানায়কদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতায় কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমের নেতৃত্বে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।

লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তির উচ্ছেদ ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা যাতে সংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাওয়া যায়।

প্রাথমিকভাবে সিপাহী অভ্যুত্থান সফল হলেও অভ্যুত্থানের কৌশলগত মিত্র জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিশ্বাসঘাতকতা ও নানামুখী দুর্বলতায় অভ্যুত্থানটি ব্যর্থ হয়। জিয়ার মার্শাল ল ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দড়িতে জীবন দিতে হয় কর্নেল তাহের এবং শতশত অভ্যুত্থানকারী সিপাহীকে।

লক্ষ্য অর্জনে সফল না হলেও ৭ নভেম্বর সিপাহী অভ্যুত্থান তার বিপ্লবী লক্ষ্য ও তা অর্জনে আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের বিচারে স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল ও সমাজ পরিবর্তনে নিবেদিত মানুষের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়ে কর্নেল তাহের সংসদের সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. বীণা শিকদার এক যুক্ত বিবৃতিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ অবস্থান কামনা করেন। নির্বাচনে বাংলাদেশ-বিরোধী সকল অপশক্তির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে বিপ্লবী তাহেরের স্বপ্ন – একটি গণতান্ত্রিক, সুখী, সমৃদ্ধশালী, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ অর্জনে অগ্রসর হবার আহ্বান জানান।