চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কোরিয়ানরাও আমাদের বাংলা ছবি দেখে আপ্লুত হয়েছে’

কোরিয়ায় প্রশংসিত বাংলাদেশের চার ছবি

‘সিউল বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবটি দুর্দান্তই ছিলো বলা যায়। বাঙালি কমিউনিটিদের জন্য এই চলচ্চিত্র উৎসব হলেও সেখানে প্রচুর কোরিয়ানদের দেখিছি। তারাও উপস্থিত ছিলো। বাঙালিরাতো বটেই, কোরিয়ানরাও আমাদের ছবি দেখে আপ্লুত হয়েছে। ছবি দেখার পর বাংলা ভাষাভাষি মানুষেরা যেমন ছবি নিয়ে নানা প্রশ্ন করেছেন, তেমনি কোরিয়ানরাও বাংলা ছবি নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছেন। সব মিলিয়ে সিউল চলচ্চিত্র উৎসবটি চমৎকার ছিলো।’

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তৃতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ‘মনপুরা’ খ্যাত নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম। ২০ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সিউল বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি হাজির হয়েছিলেন তার আলোচিত চলচ্চিত্র ‘স্বপ্নজাল’ নিয়ে।

দুটি দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে সংস্কৃতির আদান প্রদান সবচেয়ে জরুরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতির আদান প্রদানের অন্যতম বাহন হতে পারে চলচ্চিত্র। আর তাইতো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে গত তিন বছর যাবৎ দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজন করা হয় ‘সিউল বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব’। এবার গেল এই উৎসব আয়োজনের তৃতীয় সিজন।

সিউল বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান প্রোগ্রামারের দায়িত্বে আছেন নির্মাতা আবু শাহেদ ইমন। কোরিয়ায় বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি। এই চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি জানান, সাধারণত বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যারা পাড়ি জমান তারা বেশ শিক্ষিত। স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মানুষ সেখানে যান এবং এক পর্যায়ে সেটল ডাউন করেন। বর্তমানে সেখানে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি আছেন। তাদের কাছেতো বটেই, এই ফেস্টিভালের মাধ্যমে এমনকি বাঙালি ছাড়াও কোরিয়ানদেরকেও বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠতে দেখেছি। এটাকে এই ফেস্টিভাল আয়োজনের খুব ইতিবাচক দিক বলে মনে হয়েছে আমার।

Advertisement

কোরিয়ানদের জন্য কোরিয়ান ভাষায় সাবটাইটেল করে উৎসবে ছবি প্রদর্শনী করায় বেশ সাড়া পেয়েছেন জানিয়ে আবু শাহেদ ইমন আরো বলেন, বাঙালি কমিউনিটি টার্গেট হলেও কালচারাল এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে আমরা কোরিয়ানদের কাছেও বাংলা চলচ্চিত্র পৌঁছে দিচ্ছি। এজন্য এবার বাংলাদেশের যে সব ছবি এই উৎসবে প্রদর্শনী হয়েছে সবগুলো কোরিয়ান ভাষায় সাবটাইটেল করা ছিলো। যাতে ভাষা সংক্রান্ত কোনো জটিলতায় না পড়েন সেখানকার স্থানীয় দর্শকরা। আর এতে আমরা প্রশংসাও পেয়েছি এবার। গণ্যমান্য অনেকেই বাংলা ছবিগুলো দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

সামনে থেকে আরো বড় পরিসরে সিউলে বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমন। যার ফলে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক লেনা দেনার ক্ষেত্রে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিন দিনব্যাপী তৃতীয় সিউল বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের চারটি ছবি। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া আলোচিত ছবি ‘ডুব’, তৌকীর আহমেদের নির্মাণে প্রশংসিত ছবি ‘হালদা’, গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ এবং আকরাম খানের ‘খাঁচা’। চারটি ছবিই সেখান দর্শকের মন জয় করেছে বলে জানান উৎসব আয়োজকরা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘তৃতীয় সিউল বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোরিয়া-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অব কোরিয়ার সদস্য (সাংসদ) কিম কি সুন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম, ছিলেন উৎসব পরিচালক মাহবুবুল আলম। এছাড়াও উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে হাজির হয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত শ্রীলঙ্কা, নাইজেরিয়া ও জাম্বিয়ার রাষ্ট্রদূতসহ রাশিয়া, ইতালি, রুয়ান্ডা দূতাবাসের কূটনৈতিক ও উৎসব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

জমকালো আয়োজনের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় আরিরাং সিনে কমপ্লেক্সে। যেখানে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় উৎসবের প্রোগ্রামার ও নির্মাতা আবু শাহেদ ইমনকে। এছাড়া নিজেদের ছবি নিয়ে চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম ও আকরাম খান।