প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলে গেলেও বন্ধুত্বের গুরুত্ব কমেনি। বরং প্রকাশের মাধ্যম পাল্টালেও মানুষের আনন্দ, দুঃখ, বিশ্বাস ও নির্ভরতার অন্যতম আশ্রয় হয়ে আছে বন্ধু। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে রোববার (২ আগস্ট) বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস পালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালের ২৭ জুলাই প্রতি বছরের ৩০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস উদযাপনের প্রচলন রয়েছে।
বন্ধুত্ব এমন একটি সম্পর্ক, যা সামাজিক বা পারিবারিক কোনো আনুষ্ঠানিক বন্ধনে আবদ্ধ নয়। জীবনের সুখ-দুঃখ, গোপন কথা কিংবা কঠিন সময়ের অনুভূতি সবচেয়ে সহজে ভাগাভাগি করা যায় একজন বন্ধুর সঙ্গেই।
বন্ধু দিবসের ইতিহাস নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি মতে, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার বন্ধু প্রতিবাদস্বরূপ আত্মত্যাগ করেন। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম রোববার। পরে বন্ধুদের অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমেরিকান কংগ্রেস আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
নব্বইয়ের দশকে বন্ধুত্বের চিত্র ছিল আজকের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। তখন ছিল না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের সুযোগ। বিকেলের খেলাধুলা, পাড়ার আড্ডা, ল্যান্ডফোনে কথা বলা কিংবা হাতে লেখা চিঠির মধ্য দিয়েই গড়ে উঠত সম্পর্কের গভীরতা। বন্ধু দিবস উপলক্ষে নিজের হাতে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড তৈরি, শুভেচ্ছা কার্ড বা ছোট উপহার দেওয়ারও ছিল বিশেষ প্রচলন।
বর্তমানে বন্ধুত্বের প্রকাশ অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কল কিংবা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং বন্ধুত্বের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবুও বন্ধুত্বের মূল শক্তি রয়ে গেছে পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও পাশে থাকার অঙ্গীকারে। সময়ের সঙ্গে প্রকাশভঙ্গি বদলালেও মানুষকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে মানসিক শক্তি জোগানোর ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের গুরুত্ব আজও অটুট।







