চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: শবে বরাতসহ সব ইবাদত বা উপাসনা ঘরে হোক

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী এমনই মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করতে হয়েছে।  ধর্মীয় জমায়েতও ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মক্কা, মদিনা থেকে শুরু করে ভ্যাটিকান, সবখানেই গণজমায়েত বন্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইবাদত বা উপাসনা সীমিত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে পবিত্র শবে বরাতে মসজিদে না গিয়ে নিজ বাসায় থেকে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত আদায়ে সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও মসজিদে জুমা ও পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত রাখার আহবান করা হয়েছে। দেশের শীর্ষ আলেমদের এ সিদ্ধান্ত জনগণের কল্যাণের স্বার্থেই। পবিত্র মক্কা-মদিনাসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব মুসলিম দেশেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানেও নিরাপত্তার স্বার্থে জমায়েত বন্ধ আছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে দেশের শীর্ষ আলেমদের ঐক্যবদ্ধ আহ্বানের পরও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মসজিদে জনসমাগমের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি আগের চেয়ে বেশি জনসমাগম করেও অনেক জায়গায় জামাতে নামাজ আদায় করা হচ্ছে। যথাযথ ধর্মীয় জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবেই এমনটা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।  ধর্ম পালন নিরুৎসাহিত নয়, বরং জনস্বার্থে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। সবার সম্মিলিত সহায়তা ছাড়া মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস প্রতিরোধ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘দেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধকল্পে সরকার সকল সরকারি বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘােষণা করেছে। অত্যন্ত জরুরী প্রয়ােজন ছাড়া জনসাধারণকে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। সব ধরনের সামজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র শবে বরাতের নামাজও ঘরে আদায়ের জন্য বলা হয়। এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলে আমরা মনে করি।

করোনাভাইরাসে ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশগুলোর করুণ অসহায়ত্বও ফুটে উঠছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার মানুষ মারা গেছেন এ ভাইরাসে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কথা কল্পনায়ও ভাবা যায় না। এজন্য এই মুহূর্তে সব ধরনের জনসমাগমসহ আমাদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে মহামারী করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ। সুতরাং সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দায়িত্বশীল আচরণ করতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।