চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: মহাপ্রলয় হয়ে যাচ্ছে না যে জনপ্রতিনিধিদের আর জনগণের কাছে আসতে হবে না

অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশে করোনাভাইরাস দুর্যোগ নেমে আসার পর আপনি কি আপনার এলাকার জনপ্রতিনিধিদের পাশে পেয়েছেন? কেউ কেউ হয়তো পেয়েছেন, কিন্তু বেশিরভাগই না। আবার তৃণমূল পর্যায়ে কেউ কেউ জনপ্রতিনিধিদের পাশে পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো এ মৃত্যুসম সময়েও তাদের জনপ্রতিনিধিদের ত্রাণ চুরির সাক্ষী হয়েছেন কিংবা গণমাধ্যমে তাদের কূকীর্তির কথা জেনেছেন। অবস্থা এমন যে এ করোনাকালেও দুর্নীতি দমন কমিশনকে ত্রাণ চুরির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিতে হয়েছে।

ভালোয়-মন্দে তৃণমূলে জনপ্রতিনিধিদের কিছু অস্তিত্ব তবু টের পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু, সেই সাড়ে তিনশজন যাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব? তারা প্রস্তুতিপর্বে নিজ এলাকার জন্য কী করেছেন? আর এখনই বা কী করছেন?

বিজ্ঞাপন

অনেকের কর্মকাণ্ড দেখে বলতেই হচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব মানে আপনাদের জন্য নিজের ঘরে বসে থাকা না। আপনাদের বড় একটি অংশ ভোটে না হলেও অফিশিয়ালি জনপ্রতিনিধি, মানুষের দুর্যোগে ভোটের ঘাটতিটা কমানোর সুযোগও এসেছিলো।

বিজ্ঞাপন

সম্ভবত সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের অনেকে নিজেদের দূরে দূরে রাখছেন। কিন্তু, সামাজিক দূরত্বটা আসলে আপনাদের জন্য ছিলো না। যেমন চিকিৎসাকর্মীরাসহ পুলিশ-সেনাবাহিনী মানুষের পাশে আছে, আপনাদেরও তেমনটা থাকার কথা।

মানুষ কি সেভাবে আপনাদের পাচ্ছে?

বলছি না যে আপনাদের কথিত স্বেচ্ছাসেবকসহ ঘুরে বেড়াতে হবে। কিন্তু, আপনারা মানুষের পাশে আছেন মানুষ সেটা দেখতে চায়। আপনার দেয়া সাহসটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

কীভাবে করবেন সেটা যার যার সৃজনশীলতার বিষয়। কেউ হয়তো মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দেবেন যে, সহায়তার জন্য কোন নাম্বারে আপনার বা আপনার লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কেউ বাড়ির সামনে হাতে লেখা পোস্টার বা লিফলেট সেঁটে দিয়ে আপনাকে কিছু জানানোর নম্বর বা ঠিকানা দেবেন। কেউ হয়তো নিজেই গাড়ি চালিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে লিফলেট দিয়ে আসবেন।

আরো অনেক ব্যবস্থাই আছে। অনেকে করছেন, বেশিরভাগই না; অন্তত মানুষের ধারণাটা সেরকমই।

এ দুর্যোগ নিশ্চয়ই একদিন কেটে যাবে। হয়তো অনেক মূল্যের বিনিময়ে, হয়তো কিছুটা কম মূল্যে। কিন্তু, মানুষের যদি ধারণা হয় যে, মানুষের প্রয়োজনে আপনি মানুষের পাশে ছিলেন না; মানুষ তাহলে একদিন কড়ায়-গণ্ডায় সেটা উসুল করবে।

সত্যি বলতে কি, প্রধানমন্ত্রী যেদিন টিভি পর্দার মাধ্যমে আমাদের সামনে উপস্থিত হন; মানসিকভাবে সেই দিনটা একটু স্বস্তিতে কাটে।  মনে হয় অনেককিছু না হলেও কিছু আছে, কিছু হচ্ছে।

জনপ্রতিনিধিরাও নিজ নিজ এলাকার মানুষকে কিছুটা সেই সাহস এবং স্বস্তি দিতে পারেন। এটা তো নিশ্চিত যে, করোনা এমন মহাপ্রলয় ঘটিয়ে দেবে না যে আপনাদের সঙ্গে মানুষের আর দেখা হবে না।

করোনাভাইরাস পরবর্তী সেই দিনটার জন্যও আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে যেনো সেদিন শুধু মাথা উঁচু করেই আপনি দাঁড়াবেন না, ভালোবেসে মানুষ আপনাকে বরমাল্যও দেবে।  সেটা এখন নিশ্চিত করছেন তো?