চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: কানাডায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই

মহামারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে কানাডায়। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯২ জন আর মারা গেছেন ৩৫ জন।

কানাডায় এখন পর্যন্ত ১২,৩৭৫ জন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ২০৮ জন আর সেরে উঠেছেন ২১৮৬ জন।

বিজ্ঞাপন

অন্টারিও প্রদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,২৫৫ জন; যার মাঝে সুস্থ হয়েছেন ১,০২৩ জন ও মারা গেছেন ৬৭ জন।

বিজ্ঞাপন

তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযোগ, আরও কয়েকজন মারা গেছেন, যা প্রাদেশিক কর্মকর্তরা যুক্ত করেননি।

অন্টারিও স্বাস্থ্য নির্বাহী ম্যাট অ্যান্ডারসনের বলেছেন, প্রদেশব্যাপী করোনা আক্রান্তদের জন্য ৪০০ নিবিড় পরিচর্যার শয্যা তথা ‘আইসিইউ বেড’ রয়েছে, যার সংখ্যা দ্রুতই ৯০০ -এ উন্নীত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, করোনা প্রতিরোধে অন্টারিও প্রাদেশিক সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অব্যাহত থাকলে দুই বছর জীবনচক্রের জীবাণুর প্রার্দুভাবে মৃত্যু সংখ্যা ৩ থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ‘কোভিড-১৯’ সংক্রান্ত পূর্বাভাষে এই সংখ্যাটি জানানো হয়। পূর্বাভাষের মডেলে বলা হয়, যদি সরকার তা পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়, তাতে আগামী দুই বছরে মৃত্যু সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে অন্টারিও জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান নির্বাহী ডা. পিটার ডনেলি বলেন, এই রোগের বিস্তৃতির পুরোটাই নির্ভর করছে জনগণের ওপর। একই সঙ্গে কিভাবে তার প্রার্দুভাবটি জনগণ ধারণ করেছে তার ওপর। সেজন্য সংখ্যা হ্রাসের বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করুন।

আলবার্টার প্রিমিয়ার জেসন কেনি তার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে করোনা ভাইরাসের দুর্যোগের এই মুহূর্তে একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং ধন্যবাদ জানান যারা ইতিমধ্যে এগিয়ে এসেছেন তাদের। আলবার্টার চীফ মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ডিনা হিন স সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ধৈর্যের সাথে সবাইকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।।

কানাডার আলবার্টার এডমেনটন, টরন্টো, মন্ট্রিয়ল এবং ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় প্রবাসী বাঙ্গালীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কানাডায় প্রায় এক লাখ বাংলাদেশীর বসবাস। বাংলাদেশী ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রয়েছে প্রায় ৮৫০০। বাংলাদেশ হাইকমিশনার মিজানুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় প্রবাসী বাঙালিদের কনস্যুলার সেবা ডাকযোগে অব্যাহত রয়েছে বলে জানান। বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা দিতে হটলাইন চালু করতে যাচ্ছে টরন্টোয় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। করোনা ভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে এই হটলাইন চালু করা হচ্ছে। দুএকদিনের মধ্যেই টোল ফ্রি এই হটলাইনের নম্বর ঘোষণা করা হবে।

কানাডায় প্রবাসী বাঙালিরা একে অপরের সহযোগিতা এগিয়ে আসছেন। কমিউনিটি লিডাররা খবর নিচ্ছেন, ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সচেতন করছেন সবাইকে।