চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এমন ‘কৃষক বন্ধু’ আরও চাই

দুই মাস আগে যেদিন দেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল, বলতে গেলে সেদিন থেকেই সবকিছু থমকে যেতে শুরু করেছিল। তারপর থেকে যতই দিন গড়িয়েছে, ততই স্থবির হয়ে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত কিংবা দোকানপাট-গণপরিবহন। জেলায় জেলায় লকডাউনের কারণে সরাসরি এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের কৃষক।

সাধারণ ছুটির মধ্যে পণ্য পরিবহনে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বাহনের সঙ্কট ছিল তীব্র। নানান বিধিনিষেধ আর প্রাণের ভয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য গাড়ি না পেয়ে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে খেতেই নষ্ট করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আমরা জানি, রমজানের সময় মৌসুমী কৃষিপণ্যের অনেক বেশি চাহিদা তৈরি হয়। বিশেষ করে তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, টমেটো, বেগুন ইত্যাদি। ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকও প্রস্তুতি নেন এই সময়কে চিন্তা করে। কিন্তু এবছর করোনাভাইরাসের কারণে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নামমাত্র দামে, কোথাও আবার বিনা পয়সায় সেসব পণ্য বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের মাঝে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে সেইসব কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ডাক অধিদপ্তর। তাদের পণ্য ঢাকার পাইকারি বাজারে পৌঁছে দিতে চালু করেছে ‘কৃষক বন্ধু ডাক সেবা’। বিনা মাশুলের এই সেবা আজ থেকে চালু করেছে ডাক বিভাগ। প্রাথমিকভাবে মানিকগঞ্জ জেলার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের মধ্য দিয়ে এই সেবা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে সারাদেশেই তা সম্প্রসারিত হবে বলে জানা গেছে। নিঃসন্দেহে এটা খুব ভালো একটা উদ্যোগ।

গেল সপ্তাহেও আমরা এমন আরেকটি উদ্যোগ নিতে দেখেছি বাংলাদেশ রেলওয়েকে। সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে বিশেষ পার্সেল ট্রেন চালু করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা এবং খুলনা-ঢাকা- খুলনা রুটে তিনজোড়া ‘পার্সেল স্পেশাল ট্রেন’ চলাচল করছে এখন। যদিও তা বিনামাশুলে নয়।

আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি, এই ধরনের উদ্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের অনেক উপকারে আসবে। এমনকি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ঘরে বসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের দামও পেয়ে যাবেন তারা। তবে কৃষি নির্ভর দেশে এই ধরনের উদ্যোগ আরও প্রয়োজন।

ডাক বিভাগ বা বাংলাদেশ রেলওয়ের মতো আরও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে পারে। তাহলে দেশের সব জায়গায় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়াও নিশ্চিত হবে।