চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক লংকানের সহযোগিতায় এটিএম জালিয়াতির নেপথ্যে সেই পুরনো সেলিম

এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির নেপথ্যে আছে সেলিম নামের একজন। ছয়মাস আগে সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। তার সাথে আরো একজন ‘জালিয়াতি বিশেষজ্ঞ’ আছে যে শ্রীলঙ্কান।

নিজস্ব নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, পাঁচ থেকে ছয়জনের দল নিয়ে তারা কাজ করে।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন, দেশে প্রচলিত চুম্বকীয় এটিএম কার্ড সর্ম্পকে তারা খুবই অভিজ্ঞ। এর আগে বাংলাদেশে এই কাজ করার সাহস আর কারো ছিলো না।

‘ধারণা করা হচ্ছে কারাগার থেকে মুক্তির পর সেলিম আবারো সক্রিয় হয়েছে,’ উল্লেখ করে একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এর আগে একটি ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

কীভাবে কাজ করে জালিয়াত চক্র
অন্য একটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন: এটিএম মেশিনের সাথে ছোট একটি কি-প্যাড যুক্ত করে প্রথমতঃ তারা কার্ডটি রিড করে ফেলে। দ্বিতীয়তঃ ওই কার্ডের পিনকোড জেনে নেয়। এরপর একটি ডামি কার্ড তৈরি করে প্রয়োজনীয় কোডিং সিস্টেম বসিয়ে নিয়ে অনায়াসে জালিয়াতি করে।

এরা তথ্য-প্রযুক্তিতে খুবই ‘দক্ষ’ বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ
ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: কিছু কিছু ‘স্ট্রিমিং ডিভাইস’ আছে যেগুলো বুথে সেট করে রাখলে গ্রাহক টাকা
উঠানোর জন্য কার্ডটি বুথের ভেতরে প্রবেশ করালে সেখান থেকে তথ্য চুরি হয়ে
ক্লোন কার্ড তৈরি হয়ে যায়।

সমাধান চিপ কার্ড
তবে আশার কথাও শোনাচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

এরকম একজন বলেন: যদি চুম্বকীয় এটিএম কার্ডের পরিবর্তে চিপ কার্ডের প্রচলন করা যায় তবে ওই কার্ডের কোডিং সিস্টেম ভাঙ্গা যাবে না। এর ফলে এরকম ডিজিটাল জালিয়াতি করা সম্ভব না।

২০১৪ সালে জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ার পর শুক্রবার একটি ব্যাংকের ২১ জনের কার্ড জালিয়াতি করে একটি চক্র এটিএম বুথ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই ব্যাংকটি ছাড়াও বেশ কিছু ব্যাংকের এটিএম বুথ তাই সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। শনিবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময়েও কিছু এটিএম বন্ধ ছিলো। 

‘ফিজিক্যাল’ অথবা ‘টেকনোলজিক্যাল’ অ্যাটাক
এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে চুরির ঘটনাকে সাইবার অ্যাটাক’ বলা যাবে কিনা জানতে চাইলে শুভঙ্কর সাহা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমরা
এমন একটা আভাস পেয়েছি। তবে আভাস পেলেই এটাকে সাইবার অ্যাটাক বলা যাবে না।

এটাকে সাইবার অ্যাটাক না বলে ফিজিক্যাল অ্যাটাক বা টেকনোলজিক্যাল অ্যাটাক হিসেবে বলতে পারি,’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে কার্ডগুলোর ক্ষেত্রে ‘স্ট্রিমিং ডিভাইসে’ ক্লোন কার্ড তৈরি হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে সে কার্ডগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার জন্য আমরা ব্যাংকগুলোকে বলেছি।

তিনি বলেন, গতকাল ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ঘটনা জানার পর সব ব্যংকে ই-মেইল করা হয়েছে। আমরা আভাস পেয়েছি যে বেশ কয়েক জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আরো বেশ কিছু জায়গায় ঘটার আশংকা আছে। তাই হয়তোবা কেউ তাদের নিরাপত্তার খাতিরে এটিএম কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখতে পারে।

পুলিশের জানা নে
রাজধানীতে এটিএম জালিয়াতি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় উঠলেও বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের জানা নেই।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন: এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির কোনো কথা আমি এখনো শুনি নাই।

‘বিষয়টি আগে জানতে হবে, তারপর বলতে পারবো,’ উল্লেখ করে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Bellow Post-Green View