চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

আবার ইরান-ইরাক যুদ্ধ নাকি কারবালার যুদ্ধ

Nagod
Bkash July

ইরান ইরাক যুদ্ধ বেঁধে যেতে হয়তো হাতেগোনা কয়েকটা মাস বাকি। এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছে বছর দশ-পনেরো আগে। যুদ্ধ তো হবে, কেননা ইতিমধ্যে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। মানে বিশ্বের মুসলিমদের দুই দলে (পক্ষ বিপক্ষ) বিভক্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন একই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে থেকে একদল মুসলমান শত্রু দল, অন্যদল মুসলমান মিত্র দলদের সমর্থন দেবে। দর্শক গ্যালারি ভরা বিধর্মী (তাই তো বলি আমরা তাই না, যার ধর্মের সাথে আমার ধর্ম মিলে না তাকেই বলি বিধর্মী) দর্শকেরা খেলা মরণ খেলা।

বিভক্তিটা এমন যে, যুদ্ধের একদল ইরানের ফার্সি ভাষায় এখনও ‘খোদা হাফেজ’ বলে কিংবা বলে ‘নামাজ’। অন্য দল বুঝিয়ে শুনিয়ে আরবী ভাষায় বলতে শিখিয়েছে ‘খোদা হাফেজ’ না বলে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলতে। এরপর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে ‘নামাজ’ না বলে বলতে শুরু করেছে ‘সালাত’। ‘সেহেরি’ বদলে হয়ে গেছে ‘সাহারী’। একদলের মহিলাদের ঢেকে দেয়া হয়েছে কালো চাদর দিয়ে অন্যদল গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়ে গেছে। অথচ একটু পিছে ফিরে গেলেই দেখা যাবে বিভেদটা এমন দৃশ্যমান ছিল না, ছিল আদর্শগত।

গেল দশ পনের বছরে থেকে আরবি ফার্সি অর্থাৎ ইরান তথা শিয়া গ্রুপ আর সৌদি আরব গ্রুপ তথা সুন্নি গ্রুপের অনুদান পেয়ে পেয়ে ধর্মীয় আচার আচরণে লক্ষণীয় পরিবর্তন এনেছে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের নাগরিক। বিষয়টা এখন দৃশ্যমান। কেউ হিজাব পড়ে, কেউ নেকাব। কেউ মোচ রাখে কেউ মোচ ছেঁটে ফেলে। কেউ সান শওকতের সাথে সোনা রুপা সাথে নিয়ে দীনদুনিয়ার জীবন অতিক্রম করছে, কেউ মাটিতে মাদুর বিছিয়ে খাচ্ছে খুরমা আখরোট। দুই পক্ষ সমানে-সমান না হলেও একজনকে প্রতিহত করতে অন্যজন কম শক্তিশালী নয়। মনে করা যেতে পারে এদের সিভিল সৈন্যরা অনেক আগের থেকে মাঠ দখলে নেমে পড়েছে। সেই দখল শেষ হলে এগিয়েছে সামরিক কলা কৌশলের দিকে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশ সৌদি আরবের সাথে সামরিক চুক্তিতে যোগ দেয়। তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যুদ্ধ আসছে। এই সপ্তাহে খবরের কাগজে দেখলাম সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি (প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তি) বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ। ঠিক এর কিছুদিন আগে তিনি (গ্র্যান্ড মুফতি) বলেছিলেন, ইসরাইলকে অভিশাপ দেয়া হারাম। সোজা কথা হচ্ছে, এখন মনে করে নিতে হবে ইহুদীরা মুসলমানদের বন্ধু। অর্থাৎ যুদ্ধ হলে ইসরাইল এবং তার মিত্র দেশগুলো এই বন্ধু ঘোষণার দেশকেই সাহায্য করবে।

এদিকে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। সামরিক দিক দিয়ে অনেক শক্তি সঞ্চয় করেছে তারা। যার জন্য আমেরিকা ইরানের সামরিক শক্তিকে কেটে ছেঁটে দিতে চেষ্টা করছে এবং মনে মনে ভয় পাচ্ছে ইরান আর উত্তর কোরিয়া যেন একে অন্যের পাশে এসে না দাঁড়ায়।

এই অবস্থায় আমেরিকা আর রাশিয়ার নড়ে চড়ে বসারই কথা, মনে হচ্ছে তারাও প্রস্তুত। কিছুদিন আগে দেখলাম রাশিয়া এমন একটি বোমা বানিয়েছে, যে বোমা দিয়ে একটা বড় দেশকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব। অর্থাৎ এক বোমাতে শেষ হয়ে যাবে একটি দেশ। দেশ মানে, শুধু দেশের মাটি না, দেশের মানুষও বটে। কথা হলো মুসলিম বিশ্বে নতুন করে যুদ্ধ হবে নাকি কারবালার ময়দানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে?

অর্থাৎ যুদ্ধের দুই পক্ষই মুসলিম ধর্মে বিশ্বাসী। কোথায় বা মুখে ভাই ভাই বললেও সেই ভাই ভাইয়ে যে যুদ্ধ করা যায় সে নিয়ম চালু আছে অনেকদিন থেকে। গোটা আরব ও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় এই তথাকথিত ভাই ভাইয়ের যুদ্ধে মানুষ অস্থির হয়ে গেছে। মানুষ যখন যুদ্ধের সমাপ্তির আশায় বসে আছে ঠিক তখনই শুরু হতে পারে আর একটি মারাত্মক যুদ্ধ। ক্ষয়ক্ষতি ভাগাভাগি করে নিতে হবে একই ধর্মে বিশ্বাসীদের। এখানে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র টার্গেট নয়, কূটনীতি বুঝতে না পারলে আপাতত নাই মনে হতে পারে।

যাইহোক কয়েকটা দিন অপেক্ষা করলে দেখা যাবে, কেন বিগত কয়েক যুগ থেকে ধর্মীয় লেবাস অর্থাৎ পোশাকআশাক, উচ্চ রক্তচাপ আর মাথা নত না করার সবক দিয়ে ‘মুসলিম বিশ্ব’ ইস্যুটাকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। কেন পশ্চিমা বিশ্বের সাধারণ মানুষ অর্থাৎ যারা হকি খেলা রাগবি খেলা কিংবা গান-কন্সার্ট, ভ্রমণ-রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত ছিল তাদের মধ্যে ‘মুসলিম’! ‘মুসলিম’! একটা আতঙ্ক ঠুকিয়ে দেয়া হয়েছে মোলায়েম ভাবে। এখন মুসলমান মুসলমান যুদ্ধ হলে পশ্চিমা দেশের সাধারণ মানুষ হয়তো প্রশ্ন করবে না ‘হোয়াট ইজ মুসলিম’? কেননা ওদের ভালো করেই বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে হোয়াট মুসলিম ইজ, তার প্রকৃত মানে।

মানবিক সাহায্য নিয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে পাশে এসে দাঁড়াবে ওদের সেই পাখা ভেঙে দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় যে কাজটা করা হয়ে গেছে তা হল অনৈতিক ভাবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যদি অনগ্রসর কোন দেশ ও জাতির সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যায় তাতে ওই সমস্ত দেশের সাধারণ মানুষ ফুঁসে উঠবে না। কেননা তাদের মধ্যে ‘মুসলিম সন্ত্রাস’ থেকে মুক্তির একটা নীরব বিপ্লব দানা বেঁধে উঠেছে। আদতে ভাবটা এতটা খারাপ নাও হতে পারে তবুও চেষ্টা করা হয়েছে ‘মরুক গিয়ে হতভাগার দল’।

ভাবছি সত্যি সত্যি যদি যুদ্ধ লেগে যায়, তবে কী সব কিছু শেষ হয়ে যাবে? নাকি কিছুকিছু টিকে থাকবে? এখানে সেখানে এখন যেমন কিছু ইহুদী বা কিছু আর্মেনিয়ানদের দেখা যায়। অথবা এমনও হতে পারে, গুটি চালাবে যারা তারাই নিভে যাবে নিজ আগুনে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

BSH
Bellow Post-Green View
Bkash Cash Back