চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আসামের নাগরিক তালিকার খসড়া থেকে বাদ পড়ল আরও এক লাখ

ভারতের আসাম রাজ্যের খসড়া নাগরিকত্ব তালিকা বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) থেকে যাচাই বাছাই শেষে এক লাখেরও বেশি মানুষকে বাদ দেয়া হয়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেয়া এই মোট এক লাখ ২ হাজার মানুষের নামের আলাদা একটি তালিকা বুধবার প্রকাশ করা হয়। জানানো হয়েছে, যাচাইবাছাইয়ে এদেরকে এনআরসি তালিকায় রাখার অনুপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নতুন করে যারা বাদ পড়ল তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়ে তথ্যটি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সবগুলো বাদ পড়া নামের তালিকা ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনসের ওয়েবসাইটে আজ থেকে পাওয়া যাবে।

বাদ পড়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করতে চাইলে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এনআরসি সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

২০১৮ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত আসামের খসড়া নাগরিকত্ব তালিকা থেকে ৪০ লাখের বেশি অধিবাসীর নাম বাদ দেয়া হয়েছিল। রাজ্যটিতে মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ বৈধ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও প্রকাশিত তালিকায় নাম আসে ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষের।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য ওই সময় এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত। ভোটার তালিকায় নাম থাকাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা ভোট দিতে পারবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

সরকারের ভাষ্য, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আসামে চলে যাওয়া জনগোষ্ঠীকে শনাক্ত করতেই ১৯৫১ সালের পর এই প্রথমবারের মতো রাজ্যের নাগরিকত্বের তালিকা নবায়ন করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে যারা রাজ্যটিতে এসেছিলেন কেবল তাদেরকেই নাগরিকত্ব দেয়া হচ্ছে।ভারত-আসাম-নাগরিকত্ব-তালিকা

স্থানীয়দের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় তখনই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাদ পড়াদের মধ্যে অনেকেই পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন দাখিল করেন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির অধীনে আসামের এনআরসি নবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। চূড়ান্ত তালিকাটি আগামী ৩১ জুলাই প্রকাশ করা হবে।

চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার আতঙ্কে আছে বহু মানুষ। ইতোমধ্যে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে অনেকের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম থাকবে না তারা নাগরিক হওয়ার যথাযথ প্রমাণাদি এবং এনআরসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যাখ্যানপত্রের কপিসহ সংশ্লিষ্ট যে কোনো ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।