ভারতের আসামে নাগরিকদের খসড়া তালিকা বা ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) থেকে বাদ পড়াদের “উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই” বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভিকে তিনি আরও জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় নাম থাকাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা ভোট দিতে পারবেন।
সোমবার প্রকাশিত আসামের নাগরিকদের খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।
রাজ্যটিতে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বৈধ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও প্রকাশিত তালিকায় নাম আসে ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষের।
১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে যারা রাজ্যটিতে এসেছিলেন কেবল তাদেরকেই নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিক কারণেই এই লোকদের টার্গেট করছে এবং আসন্ন রাজ্য নির্বাচন ও ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেই দলটির এই উদ্যোগ।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, নির্বাচন কমিশন জানুয়ারিতে একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। তারা চূড়ান্ত এনআরসির জন্য অপেক্ষা করবে না।
“কিছুই বদলায়নি” মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইলেকশন প্যানেল এনআরসির সাথে সমন্বয় করছে।
তিনি আরও বলেন, ৪০ লাখ নাগরিক ভোট দিতে পারবে কিনা, এমন চিন্তাও ‘অপরিপক্ক’। এখানে বিন্যাস আর সমন্বয়ের ব্যাপার রয়েছে। এদের অনেকেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে।
এনআরসি ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মঙ্গলবার বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ আসামে ‘গৃহযুদ্ধ ও রক্তস্নানের’ দিকে ঠেলে দিবে।
মমতার বক্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলেন, গৃহযুদ্ধের অভিযোগ করে মমতা ব্যানার্জী সংশয় ছড়াচ্ছেন। তিনি ভোট ভ্যাংকের রাজনীতি করছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, আসামের নাগরিকত্ব তালিকার কেবল খসড়া করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। আদালত বলছে, এই তালিকার ভিত্তিতে সবার শুনানি ছাড়া কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে না।
আদালত আরো জানায়, আগামী ৭ আগস্ট এই খসড়া তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। যারা এই তালিকায় থাকবে না তারা ৩০ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপত্তি জানাতে এবং অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।








