চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শেষ দৃশ্যে আমাদের অবস্থা দেখে জেলে থাকা আসামীরাও কেঁদেছে: পলাশ

এই সময়ের চর্চিত সিরিয়াল কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’। যে সিরিয়ালটির তৃতীয় সিজন শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। গত তিনবছর ধরে প্রচারিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ শেষ হওয়ায় আবেগে ভাসছেন দর্শক। নাটকটিতে কাবিলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সহকারী পরিচালক থেকে তারকা বনে যাওয়া জিয়াউল হক পলাশ। নির্মাতা অমির কাল্পনিক এ চরিত্রটি দর্শক এমনভাবে পছন্দ করেছেন অভিনেতা পলাশ নিজেই সবখানে কাবিলা নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

পর্দায় কাবিলার অভিনয় যেমন দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে তেমনি শেষ পর্বে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলে দর্শকদের কিছুটা আশাহত হতেও দেখা গেছে! নাটক শেষ হওয়ার পর সহস্র মন্তব্য ধেয়ে আসছে আসছে সংশ্লিষ্টদের দিকে। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন মোকাবেলা করতে হচ্ছে কাবিলা খ্যাত জিয়াউল হক পলাশকে। দর্শক ও পাঠকদের পক্ষে এই অভিনেতার কাছে কিছু প্রশ্ন ছিলো চ্যানেল আই অনলাইনেরও:

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন তিন নাটকের একটি দৃশ্যে পলাশ

বিজ্ঞাপন

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নিয়ে খুব মাতামাতি হতে দেখছি। কাবিলা চরিত্রটি নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে। কেমন লাগছে আপনার?
কাবিলাকে নিয়ে মানুষের যে উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা এগুলো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। গত ভোর পর্যন্ত থানার মধ্যে শুটিং করেছি। বের হওয়ার পর আমার মাইক্রোর ড্রাইভার বলছে, ভাই সারাদিন ধরে কাজে ছিলেন এজন্য কিছু বলি নাই। আমার বাচ্চা মেয়েটা আপনার জন্য কাঁদছে। তার কথা হচ্ছে, কাবিলা আংকেলকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। এজন্য ওর কান্না থামাতে পারিনি। এটা শোনার পর আমি কিছু বলতে পারিনি। মানুষ চরিত্রটাকে কতটা আপন করে নিলে এভাবে কান্না করে!

মানুষের এমন প্রতিক্রিয়া আপনাকে কতটা স্পর্শ করছে?
আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই। কখনই এমন সাকসেসের চিন্তা করি নাই। সবসময় আমি বলে থাকি, আমার সাকসেস হচ্ছে অ্যাকসিডেন্টাল সাকসেস। মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিচ্ছে এই ভালোবাসার বিপরীত দিকটা শুধু ভালোবাসাই। মানুষের ভালোবাসা আমাকে সবসময় ভীষণ আবেগী করে তোলে। তাদের কাছে আমি সবসময় নতজানু।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন তিন নাটকের একটি দৃশ্যে পলাশ

সেই তিনবছর আগে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ শুরু হয়েছিল। দর্শকদের মতে, শুরু থেকে তিনটি সিজনই ‘বাম্পারহিট’। শেষ হয়ে যাওয়ায় নস্টালজিয়ায় ভুগছেন?
ভীষণ পরিমাণ নস্টালজিয়া ফিল হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে এত কষ্ট হচ্ছে যে শেষ তিনটি এপিসোড আমি দেখিনি। সর্বশেষ এপিসোডটি ফেসবুকে শেয়ার করিনি। ব্যাচেলর পয়েন্টের শেষ দৃশ্যের শুটিং করেছিলাম ধানমন্ডি থানার জেলের মধ্যে। আমি ও মিশু সাব্বির ভাই ছিলাম। অমি ভাই শুধু বলেছিল, পলাশ এটা শেষ দৃশ্য। এরপর ওই দৃশ্যে খুব কান্না করেছিলাম। আমি নিজেও জানিনা কী সংলাপ দিয়েছিলাম! আমার মতো মিশু ভাইয়েরও একই অবস্থা ছিল। শেষ দৃশ্যে আমাদের অবস্থা দেখে থানার পুলিশ, জেলে থাকা আসামীরাও কেঁদেছে। আমি ও মিশু ভাই ঠিক হয়ে যখন ক্যামেরার সামনে যাই তখন পাশ থেকে থানার একজন এমন করে কাঁদছিল যে আমাদের শুটিং করতে অসুবিধা হচ্ছিল। এগুলো আমি কখনই ভুলতে পারবো না। ওই দৃশ্যগুলো যারা দেখেছেন তারাও ভুলতে পারবেনা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই কাবলিার শেষ পরিণতিকে নব্বই দশকের কালজয়ী ‘বাকের ভাই’ এর সাথে তুলনা করছেন। আপনিও নিজেও দেখেছেন নিশ্চয় এমন মন্তব্য। এ বিষয়টি কেমন লাগছে?
আমি এই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাই। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের এমন এক চরিত্র বাকের ভাই- যে চরিত্রের সঙ্গে আমি কখনই কাবিলাকে মিলাইতে চাইনা। দর্শক হয়তো বাকের ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে মিলিয়ে তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ জানাচ্ছে। কিন্তু কিংবদন্তীতুল্য ওই চরিত্রের সঙ্গে মেলানোর যোগ্যতাটা আমার নেই। আমার ধারণা দর্শকরা আবেগে এটা করছে। আমি মনে করি এমনভাবে আবেগ জানানো ঠিক না যা চোখে লাগে।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ কাবিলাকে (জিয়াউল হক পলাশ) তারকা বানালো, নাকি কাবিলা ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’কে সুপারহিট করালো?
নো ডাউট, ব্যাচেলর পয়েন্ট কাবিলাকে হিট করেছে। এই নাটকটির জন্যই কাবিলা হয়ে উঠতে পেরেছে। আর এই নাটক ও চরিত্রটি হিট হওয়ার পেছনে অনবদ্য অবদান যার সেই মানুষটি হচ্ছেন কাজল আরেফিন অমি। উনি না থাকলে কাবিলা চরিত্রের জন্ম হতো না। যা কিছু হয়েছে, হচ্ছে সবটাই অমি ভাইয়ের কৃতিত্ব। উনি এই চরিত্র সৃষ্টি করেছেন আমি শুধু অভিনয়টা করেছি। চরিত্রের জন্মদাতা উনি। তার অবদান সবসময় আগে। এই মানুষটার কাছে আমি সবসময় ঋণী। আমি অভিনেতা হতে পেরেছি তার জন্য। এত কঠিন সময়েও তিনি এত চমৎকার ভাবে কাজ করছেন এটা তারই ক্রেডিট। এরপর যা কিছু হয়েছে মানুষের ভালোবাসার কারণে হয়েছে।

বার্নিং কোয়েশ্চেন, ব্যাচেলর পয়েন্টের পরের সিজন আসবে?
হা হা হা… এটা পরিচালক কাজল আরেফিন অমি ভাই জানেন।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ আর হচ্ছে না। ভাবলে কেমন লাগছে?
কত খারাপ লাগছে কীভাবে বোঝাবো। আমার বাবা মা, বন্ধুরাসহ প্রতিটা মানুষ রাস্তায় বের হলে আমাকে নিয়ে যে ভালোবাসা দেখাচ্ছেন এটা আসলে প্রকট। যে মানুষটি এটি ফেইস না করবে সে কখনই এটা বুঝবে না। ফেইস করলে হয়তো বুঝবে এটার ইমোশন কতটুকু। তিনটি বছর ধরে এই সিরিয়ালটির সঙ্গে আমি জড়িত। শুধু অভিনয় করেছি এমন নয়, এটার সহযোগী পরিচালকও আমি। প্রিপ্রোডাকশন, স্ক্রিপ্টিং থেকে এডিটিং এও আমি থাকি। সবকিছুর সঙ্গে আমি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। আমি বুঝতেছি আমার খারাপ লাগাটা কতটুকু। ঈদের জন্য নতুন একটি কাজ করছিলাম। তাহসান ভাই তিশা আপু ছিলেন। সেখানে ব্রিফিং দিতে পারছিলাম না। তারা দুজনও ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন। তখন বার বার মনে হচ্ছে, ধানমন্ডি ২৮ নাম্বারে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ এর শুটিং করতাম। সেখানে আমি নিজের অন্য নাটকের শুটিং করছি। গতকাল সারাদিন ফেসবুকে ঢুকিনি। কিন্তু মানুষ বারবার বলছিল শেষ পর্ব দেখে ফেলেছি, কেউ কেউ আমাকে দেখে কান্না করছে তখন যে আমার মধ্যে কী হচ্ছিল তা শুধু আমি বুঝতেছিলাম। এরপরেও নিজেকে শক্ত রেখে কাজ করেছি। বাস্তবতা কোথায় গিয়ে দাঁড় করায় গতকাল আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। গতকাল শুটিং করছিলাম আমার আম্মা ফোন দিয়ে বলেছে, আব্বু আমার খুব খারাপ লাগছে আর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দেখতে পাবো না। আমার ছেলের অভিনয় দেখে আমি কি আর হাসতে পারবো না? নিজের মায়ের কাছ থেকে এই কথা আমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবো? এটা শোনার পর আমি নিজের আবেগ কীভাবে ধরবো রাখবো?

বিজ্ঞাপন