চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আগের ১০ বছরের ডেভলপমেন্ট এখন প্রতি ৬ মাসে হচ্ছে’

ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসানের জন্ম ১৯৮৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। তার পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার পুরোটা সময় কেটেছে রাজধানী ঢাকায় একে হাইস্কুল ও ঢাকা কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশের পর তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এআইইউবি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্রাজুয়েশন করেন। তার প্রকৌশলী পরিচয় ছাপিয়ে উদ্যোক্তা পরিচয় দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে।

৪র্থ প্রজন্মের একজন বাংলাদেশি উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব গতানুগতিক জীবনযাত্রার প্রতি তিনি অভ্যস্ত নন। প্রকৌশলী হয়েও স্বাধীনভাবে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। সমসাময়িক প্রজন্মের তরুণ ও সফল উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী অমিকন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

একাত্তরের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের দেশপ্রেম তাকে সবসময়ই অনুপ্রাণিত করে। দেশের জন্যে কিছু করার মধ্যেই খুঁজে পান আত্মতৃপ্তি। ২০১৭-২০২০ সাল মেয়াদে কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেডেন্টস্টেটস অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটির পরিচালক ছিলেন। দ্য ফার্মার্স ব্যাংক লিমিটেড, অ্যাপোলো হসপিটাল লিমিটেড এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির পরিচালকও তিনি।

সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা বাংলা প্রকাশ এবং শিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক ম্যাগাজিন এডুকেশন টুডে’র প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক। কাজের প্রতি একাগ্রতা, সততা এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে একের পর এক সফল উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পারিবারিক আবহ থেকে উন্নয়ন এবং উদ্যোগের স্পৃহা মিশে আছে তার রক্তে। নিজেদের ব্যবসাকে কর্পোরেট কালচারের আদর্শে পরিণত করেছেন। তিনি একা নন। তাকে ঘিরে আছেন তার অমিকন শিল্প সাম্রাজ্যের অসংখ্য প্রিয়জন, দুরের ও কাছের আত্মীয়। যারা তার এগিয়ে চলার পাথেয় ও প্রেরণা।

মেহেদী হাসানের সফলতার পেছনে রয়েছে পিতা লেকচার পাবলিকেশন্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের আদর্শ। পিতার দেখানো পথে নিজের ব্যক্তিত্ব, পড়াশোনা, রুচিবোধ ও জীবনাদর্শকে আগলে ধীরে ধরে দেশের গন্ডি পেরিয়ে নিজের সীমা বিস্তৃত করে চলেছেন আন্তজার্তিক অঙ্গনে। গ্রাজুয়েশন করে যোগ দেন পারিবারিক ব্যবসায়। বাবার প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা শিল্পের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথাগত ব্যবসার গন্ডি ভেঙে তাতে যোগ করেন তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়া, আধুনিক মোটিভেশন, নৈতিক দেশপ্রেম ও মানবিক উন্নয়নের ভিশন। আর এতেই একের পর এক দেখা দেয় সফলতা। গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয়তা পায় অমিকন গ্রুপের সবগুলো উদ্যোগ।

পিতার প্রতিষ্ঠান লেকচার পাবলিকেশন্স এর তুমুল জনপ্রিয়তাকে আরও বহুগুণ কাজে লাগিয়ে বিকশিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। মেধা ও জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাংলাপ্রকাশ অমর একুশে বই মেলাসহ সারাবিশ্বের বইমেলায় বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের উজ্জলতা তুলে ধরছে প্রতিনিয়ত। একের পর এক সফল উদ্যোগ আর কাজের ক্ষেত্র তৈরী করতে নিরলস পরিশ্রম করে মেহেদী হাসান তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারিত করেন পেপার, স্টিল, রিয়েলএস্টেট, এগ্রোইন্ডাস্ট্রি, মিডিয়া ও আইসিটি সেক্টরে।

আইএসও সার্টিফিকেশন ও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক অবদানের জন্যে নানা পুরস্কার এসেছে অমিকন গ্রুপের সম্মাননা বৃদ্ধিতে। আইএসও টোটাল পারফেক্ট কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট পুরস্কার মেহেদী হাসানের ডাইনামিক ভুমিকাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শিক্ষা দিয়ে গণমাধ্যমে উজ্জীবিত করতে এডুকেশন টুডে পাক্ষিক ম্যাগাজিন সম্পাদনা করছেন। নিউরন পাবলিকেশন্স, প্রিমিয়ার প্রিন্টিং প্রেস ও অমিকন ডিস্ট্রিবিউশন এই প্রতিষ্ঠানগুলো শক্ত অবস্থানের পেছনে মেহেদী হাসানই মূল কারিগর।জাইমএগ্রো, গোমতী পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী, অমিকন ডেভেলপমেন্ট, অমিকন পাল্প এন্ড পেপার মিল ছাড়া অমিকন এগ্রো এর পরিচালক তারণ্যদীপ্ত মেহেদী হাসান। এফবিসিসিআই ও ডিসিসিআই এর একজন সক্রিয় সদস্য তিনি। অনেক মানুষ তার জীবদ্দশায় নিজের কাজের স্বীকৃতি পান না। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও মেহেদী হাসান অন্যদের চেয়ে ভাগ্যবান। আইএসও সার্টিফিকেট ছাড়াও পেয়েছেন ন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড, চিল্ড্রেন এন্ড ওম্যান ভিশন ফাউন্ডেশন গোল্ড মেডেল, ফকির লালন শাহ গোল্ড মেডেল এবং হিমালয়া বেস্ট বিজনেস এন্টারপ্রেনারস অ্যাওয়ার্ড।দেশের সীমা ছাড়িয়ে তার কাজের স্বীকৃতি এসেছে বিদেশ থেকেও। তার বড় প্রমাণ ইন্টারন্যাশনাল সেঞ্চুরি কোয়ালিটি ইরা অ্যাওয়ার্ড।

এছাড়াও বেস্ট এন্টার প্রাইজ অ্যাওয়ার্ড, ইউরোপীয়ান অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট প্রাকটিস, দ্য গ্রিন ইরা অ্যাওয়ার্ড ফর সাসটেইনেবিলিটি অ্যাওয়ার্ড এবং এন্টারন্যাশনাল স্টার ফর লিডারশিপ ইনকোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে করেছে সমুজ্জল।

‘প্রাণ থাকলেই প্রাণী হওয়া যায় কিন্তু মন না থাকলে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না’-একজন প্রকৃত পরিশীলিত মনের মানুষ হতে হয় জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে। মেহেদী হাসান তার শিক্ষক পিতার কাছ থেকে পাওয়া এই শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে সাধনা করে চলেছেন একজন পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর মনের মানুষ হওয়ার। আর তাই তরুণ বয়সেই তিনি তার উদ্যোগ ও উন্নয়ন দিয়ে পরিণত হয়েছেন অন্য শিল্পপতিদের চেয়ে আলাদা, একেবারে স্বতন্ত্র্য তিনি তার নিজস্ব সত্ত্বায়, মেধা, মননে আর চিন্তায়। ২০০৬ সালে পিতার একাডেমিক প্রকাশনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানকে একাই টেনে আনেন বৃত্তের বাইরে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে তুলে ধরেন সারাবিশ্বের সামনে। ২০০৭ সালের ১ এপ্রিল সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাংলাপ্রকাশএর যাত্রা শুরু করেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সারাবিশ্বের বইমেলাতে বাংলাদেশের আধুনিক প্রকাশনা শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। সৃজনশীল কবি, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক, লেখক ও সাংবাদিকদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বাংলাপ্রকাশ। ধীরে ধীরে এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা অঙ্গনে। প্রতি বছর অমর একুশে বই মেলায় বাংলাপ্রকাশ এর নান্দনিক স্টলের দিকে মনোযোগ ও ভীড় থাকে পাঠকদের।

নিজের সৃজনশীলতাকে পুঁজি করে একজন ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছেন সাফল্যের সেই কাংখিত চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে। সম্প্রতি দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনীতির নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি কি দেখছেন?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিগুলোতে আরএনডি এন্ড রিসার্চ অনেক কিছু হয়ে থাকে যেটা প্রডাকশন এন্ড এভরিথিং ইজ বেজড অন সাউথ এশিয়া এন্ড ইট ইজ ভেরি স্ট্রংলি প্লেয়িং রোল অলঅভার লাইক- আপনি যদি বলেন বর্তমানে টেক ইন্ডাস্ট্রিতে- হোয়াট এভার ইন্ডাস্ট্রিজ উই আর হেয়ার ইন লাইক অ্যামাজন, গুগল অর সাম হোয়ারলাইক আইফোন অ্যাপল কোম্পানি- বিলিয়ন ডলার ইন্ডাস্ট্রিজ আর ডিপেন্ডিং অন সাউথ এশিয়ান ইকোনমি। বাংলাদেশে গেল ১২ বছরে টেক এন্টারপ্রেনার বা ফিন্যান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রিতে যারা কাজ করছি আমরা যারা তরুণ উদ্যোক্তা- আমি মনে করছি যে, বাংলাদেশের এই রোল প্লেয়িংটা ইজ ভেরি ইম্পট্যান্ট ইন সাউথ এশিয়ান ইকোনমি এন্ড উই ইউল বি রিকগনাইজড অ্যাজ- আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল হবে। অলরেডি আমি মনে করি যে, আমরা সেই ডিজিটাল বাংলাদেশে পদার্পণ করেছি।

প্রশ্ন: অনেক দিক দিয়ে আমরা এখন ইডিজিটালি সাউন্ড?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: রাইট। আমি মনে করি, আগের দশ বছরের ডেভলপমেন্ট এখন বাংলাদেশে প্রতি ৬ মাসে হচ্ছে। উই আর গোয়িং টুওয়ার্ডস দ্যা ডেভলপমেন্ট ভেরি ফার্সেস্ট।

প্রশ্ন: আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং করে উদ্যোক্তা হিসেবে আসলেন কেন?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: এটা- অ্যাকসিডেন্টালি আই থিং সো। আমি যে জায়গায় ফোকাস করতে চাই- অ্যাজ এ একাডেমকি পাবলিশার। উই আর দ্যা লার্জেস্ট পাবলিশার ইন বাংলাদেশ। সো উই ওয়ার্ক উইথ একাডেমকি কারিক্যুলামস। অলরেড গর্ভমেন্ট হ্যাজ রিকগনাইজড দিস এন্ড গর্ভমেন্ট ইজ ডুয়িং সাম টেকনিক্যাল এডুকেশনে প্রেফারেন্স- দিচ্ছে। তো জার্মান- ইউরোপে আমরা যেসব উন্নত দেশ দেখছি। সেখানে সব দেশ উন্নত নয়। ওই দেশগুলো একচুয়ালি ক্লাস এইটের পরে বেসিক এডুকেশন শেষ হয়ে গেলে তাদেরকে চুজ করে দেওয়া হয়- ইউ উইল ডু স্টার্ট নাও ইওর ক্যারিয়ার অ্যাজ দিস এন্ড দেন ইউরোপ এভরি ওয়ান ডাজ নট নীড টু বি বিএ অর বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। যেটা আমাকে ছোট বেলায় বলা হয়েছে যে, তুমি ডাক্তার হবে। আমি হতে চেয়েছিলাম পাইলট। এখন আবার হলাম ইঞ্জিনিয়ার। এই যে একটা- ডিসটেন্স অব আওয়ার অবজেক্টিভস ইটস ভেরি ফার। অর্থ্যাৎ বাবা মায়ের প্রত্যাশা, ছেলেমেয়েদের ইচ্ছা এবং শিক্ষদের আবার একটা ভূমিকা আছে যে, না- আমি এই ছেলেকে জানি, সে এইটা করতে পারবে। এই জায়গাটা আসলে ডিফাইন করে দিলে আমাদের একটা পার্সেন্টেজ টোটাল কান্ট্রি ওয়াইড মেইনটেইন করতে হবে।

প্রশ্ন: ছোটবেলা থেকে প্যাশনেট করে গড়ে তুলতে হবে?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: এভরি ওয়ান জিপিএ ফাইভ দরকার নাই। এখন অলরেডি জিপিএ ফাইভ কমিয়ে নিয়ে আসার জন্যে-গর্ভমেন্ট হ্যাজ টেকেন স্টেপ এন্ড ইট ইজ ইম্পট্যান্ট স্টার্ট। কারণ সবার একই এডুকেশন দরকার নাই। সবাই ডাক্তার হবে, সবাই ইঞ্জিনিয়ার হবে- নট নেসাসারি। কারণ প্ল্যামিং এর কাজটাও তো কাউকে না কাউকে করতে হবে। আজকে যারা রিয়েল এস্টেটে কাজ করছি আমরা- সবাই প্রফেশনালস এর অভাবে ভুগছি। যারা সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে এন্টারপ্রেন করছি- ভাল ছেলেগুলো যারা ক্রিম, চলে যাচ্ছে বিদেশে আর আমরা প্রফেশনালস এর অভাবে ভুগছি।

প্রশ্ন: এই ব্রেইন ড্রেনিং এর ব্যাপারটি একেবারেই ভোগাচ্ছে আমাদের?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: তাদের তৈরী করার জন্যে আমরা কি তাকে ৫ বছরের জন্যে লিখে পড়ে নিতে পারছি যে, তুমি এক বছর কাজ শিখে ৪ বছর আমার এখানে থাকবে। যখনই সে কাজ শিখছে তারপরে সে চলে যাচ্ছে হাফ মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে এরপরে তার নেক্সট ডেসটিনেশন হচ্ছে সুইজারল্যান্ড, হয়তো বা গুগল কিংবা অ্যামাজন। ব্রেইন ড্রেইন বন্ধ করে উল্টো যদি আমরা ব্রেইন গেইন এর কথা চিন্তা করি। ইউরোপ থেকে উল্টো মাথা নিয়ে আসা যায়। যেসব ছেলে মেয়ে বাইরে চলে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরে কিন্তু এরা বাইরেও কাজ করছে আবার বাইরে থেকে ভেতরে লোক নিয়ে আসছে। দুবাই কিন্তু একইভাবে আমেরিকান ব্রেইন হায়ার করে- দুবাই হ্যাজ বিন ডেভলপড।

প্রশ্ন: আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর এবং আইটি সেক্টরে বাইরের লোক প্রচুর রেভিনিউ নিয়ে যাচ্ছে?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: রেস্ট ইন ফোকাস ইন গার্মেন্টস। কারণ এটি আমাদের রেভিনিউ দিচ্ছে। হোয়াই উই আর নট ফোকাসিং- যেগুলো রেভিনিউ দিবে? প্রটেনশিয়াল সেক্টর হিসেবে আইসিটি অলরেডি হ্যাজ বিন রিকগনাইজড।

প্রশ্ন: স্টার্টআপদের ব্যাপারে আপনার ভাবনা কী?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: আমি একজন ব্যাংক পার্সোনাল। একটা বিষয়ে ‍উল্লেখ করতে চাই তা হলো- রিসেন্টলি একটা ফান্ড এসেছে তা হলো স্টার্টআপ কোম্পানী বাংলাদেশ দুই দিন আগে দেখলাম। ৫০০ কোটি টাকার অপরিশোধিত মূলধন হলো ২০০ কোটি টাকা। ৫০০ কোটি টাকা যখন ফাইন্যান্স করা হবে- এটা প্রবাবলি কিছু ভয় হচ্ছে এখানে। এটা কিন্তু ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে গিয়ে একটা কোম্পানী ফরমেট করে। কোম্পানী কি করবে? আর কিছু ছোট কোম্পানীকে উদ্যোক্তা লোন দেবে এবং এই কোম্পানী রান বাই গর্ভমেন্টপিপল। ইটস লাইক এ প্রাইভেট গর্ভমেন্ট কাইন্ড অব লাইক থিংকব্যাংকিং ফরমেটে কাজটা করবে। ভাল উদ্যোগ। কিন্তু উদ্যোগটা যেন ইইএফ এর মত এন্ড অফ না হয়। যেটা আমাদের ইইএফ ওয়াজ নট সাকসেসফুল অ্যাজ মাচ। লট অফ পিপল টেক ইইএফ। বাট টে আর নট এনগেজড ইন এগ্রো বিজনেস।

প্রশ্ন: প্রপার ফাইন্ডিংসের এখানে বড় গ্যাপ আছে?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: হোয়েন পার্সোনালি উই লুক আফটার দ্যা ইনভেস্টমেন্ট হোয়েন ইট কাম ফ্রম সুইজারল্যান্ড অর সিঙ্গাপুরিয়ান কোম্পানী এন্ড দে হ্যাভ এন আইডিয়া। ইভেন বাংলাদেশ থেকে আমি কিছু ছেলেদের চিনি যারা সিঙ্গাপুর থেকে ফার্স্ট ইনভেস্টমেন্ট এক থেকে দুই মিলিয়ন ইনভেস্টমেন্ট পাচ্ছে। ওই কোম্পানী যদি দেড় মিলিয়ন ইনভেস্ট করতে পারে সে বাংলাদেশ থেকে প্লেন ভাড়া দিয়ে প্রেজেন্টেশন দিয়ে বিশ কোটি টাকা নিচ্ছে এবং সে খুশি। কারণ তারা পনের পার্সেন্ট শেয়ার মাত্র ২০ কোটি টাকা ভ্যালু ধরেছে। কোম্পানীর ভ্যালু ধরেছে ৩০০ কোটি। আমি নাম বলবো না কিন্তু এই রকম জিনিস বাংলাদেশে হবে- কখন? যখন এই যে ক্যাপিটালিস্ট-এখানে বাংলাদেশের আরও ২/৩ টা ভেনচার ফার্ম আছে যারা খুবই নাম করা। তারাও কিন্তু সাকসেসফুলি এই বিজনেসটা করতে পারে নাই। এখন দেখেন পাঠাও চলে গেছে বাইরে। বিভিন্ন কোম্পানী যারা সাকসেসফুল তারা চলে গেছে। কারণ বাইরের কোম্পানী অনেক কিছু বুঝছে। ইনফ্রাসট্রাকচার এনালাইসিস করতে পারছে। সেখানে আমি বলবো শুধু উদ্যোক্তা না? উদ্যোক্তাদের মধ্যে আইডিয়া অনেক নতুন নতুন আছে। যারা ইনভেস্টমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। তাদেরকে দেখতে হবে।কিন্ত ‍তা এনলাইসসিস করার সক্ষমতা আমাদের নেই।

প্রশ্ন: আর ইন্টার পার্সোনাল কমিউনিকেশনের জায়গাটা?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: এটা উদ্যোক্তার পার্ট না? আমি একটু আগে এই কথাটাই বলছিলাম। এটা আবারো একটা জায়গায় ভুল। আমি যখন ইনভেস্ট করছি- যে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন যে ফাইন্যান্স করছে- হি ক্যান বি এ প্রাইভেট ইক্যুইটি। হি ক্যান বি এ ভেনচার ক্যাপিটালিস্ট। হি ক্যান বি এ ব্যাংক। আমার কথা একটাই। যে করছে সে অনেক অভিজ্ঞ। ২০ বছর ৩০ বছর তার একটি বোর্ড আছে। তারা এই রকম করে অভ্যস্ত। তারা ইনভেস্ট করা জানে। তাদের গাইডেন্সটা কিন্তু উদ্যোক্তার দরকার হয়। আপনি কি ব্যাংক থেকে ইনভেস্ট করার পর তাকে গাইডেন্স দিতে জানেন? সে কনফিউজড। তার প্ল্যানটা হয়তো একটু চেঞ্জ দরকার। আপনার বোর্ড থেকে তা বলতে হবে যে, তোমার এই এই অপশনগুলো এইভাবে করতে হবে।

প্রশ্ন: আমাদের সরকার অর্থনীতি কিংবা আমাদের সমাজকে ঢেলে সাজাতে চাইছে পজিটিভলি। এর ফলে সরকার শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে- এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: শুদ্ধি অভিযানের আগে দেশপ্রেম। দেশপ্রেম থাকলে আজকে শুদ্ধি অভিযানের দরকার হতো না। কোথায় দেশপ্রেমের ঘাটতি? এর ঘাটতির পেছনে কোন কারণ আছে। ধরুন- হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং আদার অনেক ফ্যাক্টর আছে যেগুলো একজন মানুষের পিস অব মাইন্ড। যার কারণে- দে আর নট গোয়িং ইন টু দ্যা করাপশন। ১৮ কোটি মানুষের দেশে হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রভাইড করা খুবই কঠিন। এটা এক দিনে হবে না।

প্রশ্ন: মানুষ তো সচেতন না?
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান: মানুষকে দোষ দিয়ে তো হবে না। এই একই মানুষ যখন আবার আমেরিকা ও ব্রিটেনে যায় তখন সে পরের দিন থেকে বুঝতে পারে তাকে কী কী করতে হবে? সেখানে এভরি থিং ইজ অর্গানাইজড। আমাদেরকেও সুশৃংলতার দিকে যেতে হবে।

Bellow Post-Green View