১৯৩২ সালের ৩১ জানুয়ারি। মুখোমুখি দেখায় এগিয়ে থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সামনাসামনি হয়েছিল বার্সেলোনা। সেই শেষ। এরপর দিনকে দিন নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে রিয়াল, বার্সা পড়ে গেল অনেক পেছনে। সুযোগ পেল না ধারে কাছে ঘেঁষার!
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১.৪৫ মিনিটে রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনন্য এক রেকর্ড গড়ার সুযোগ নিয়ে এল ক্ল্যাসিকোতে নামবে বার্সা। বাঘা বাঘা কিংবদন্তিরা যা পারেননি, সেই কীর্তি গড়ার সুযোগ থাকছে লিওনেল মেসির সামনে। ২০১৮-১৯ মৌসুমের লা লিগার দ্বিতীয় এল ক্ল্যাসিকো জিততে পারলেই ৮৭ বছর পর জয়ের ব্যবধানে রিয়ালকে আবারও ছাড়িয়ে যাবে বার্সা!
বুধবার কোপা ডেল রেতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে রিয়ালকে তাদের মাঠেই ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে বার্সা। সেই ম্যাচ জিতে ১৯৩২ সালের পর আবারও রিয়ালের পাশে চলে আসে কাতালানরা। দুই দলের জয়ের ব্যবধান এখন সমান, একে অপরকে হারিয়েছে ৯৫ বার করে।
শনিবার রাতের ম্যাচটা জিতলে আবারও লস ব্লাঙ্কোসদের পেছনে ফেলতে পারবে কাতালান জায়ান্টরা। হারলে অপেক্ষায় থাকতে হবে আবারও দুই ম্যাচ জয়ের জন্য। ড্র হলে ব্যবধানটা থাকবে সমানে সমান।
ইউরোপে বরাবরের মতো শক্তিধর দল হিসেবে পরিচিতি পেলেও ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় বার্সার আসল শক্তিটা প্রকাশ করতে পারছিল না। জয়ের হিসেবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল থেকেও বেশ পিছিয়ে ছিল ক্লাবটি। বিশেষ করে বার্নাব্যুতে। ২০০৩ সালের আগ পর্যন্ত এই মাঠে ৭৪ দেখায় মাত্র ১৩ বার স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয় পায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সা।
১৯৩২ সালের ৩১ জানুয়ারির ম্যাচটার আগে বার্সা এগিয়ে থাকলেও ২-০ গোলে সেই ম্যাচ জিতে সমতা আনে রিয়াল। ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-৬’এ। এরপর থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের পাত্তাই দেয়নি লস ব্লাঙ্কোসরা। পিছিয়ে পড়তে শুরু করে বার্সা। ১৯৬৫ সালে ১৬ জয় বেশি নিয়ে অনেকটা এগিয়ে যায় রিয়াল। ৫৪ বছর ধরে বার্সাকে কেবল অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে সমতা আনার।
কিন্তু ২০০৪ সালের পর থেকে চিত্রটা ক্রমেই পাল্টানো শুরু করে। রোনালদিনহো, ডেকো, থিয়েরে অরিঁদের মতো বিখ্যাত ফুটবলাররা সাফল্য বয়ে আনতে শুরু করেন বার্সার জন্য। ক্লাবটির যুবদল লা মাসিয়ার ত্রয়ী জাভি-ইনিয়েস্তা-মেসি মিলে জোট বাঁধার পর রিয়ালের ওপর ছড়ি ঘোরানো শুরু হয় কাতালানদের। বিশেষ করে মেসি নামক এক কিংবদন্তির উত্থানে একবিংশ শতাব্দী থেকে নিজেদের ইউরোপের পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বার্সা।
শেষ দুই দশকে রিয়ালের ওপর পরিষ্কার আধিপত্য বিস্তার করে বার্সেলোনা। যে দলটাকে একটা সময় বার্নাব্যুতে হাবুডুবু খেতে হয়েছে জয়ের জন্য, সেই দলটাই ২০০৪ সালের পর থেকে ২৪ ম্যাচে ১২ বার জয় নিয়ে ফেরে। এরমধ্যে ২০০৯ সালে ৬-২, ২০১৫ সালে ৪-০ গোলে হারের লজ্জা এখনো আঁতে ঘা দেয় রিয়ালকে।
কেবল পেছনে ফেলাই নয়, শনিবারের ম্যাচটা জিততে পারলে প্রথমবারের মতো ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার রিয়ালকে হারানোর ইতিহাস গড়বে বার্সা। রিয়াল অবশ্য আগেই এই কীর্তি গড়ে বসে আছে। ২০১৩ সালে তিনদিনের ব্যবধানে লা লিগা ও কোপাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারায় হোসে মরিনহোর দল। ২০১৭ সালে স্প্যানিশ সুপারকাপের দুই লেগেও জয় পায় রোনালদো-বেনজেমাদের রিয়াল।
রাতের ম্যাচটি হবে ইতিহাসের ২৪২তম এল ক্ল্যাসিকো। আগের ২৪১ ম্যাচে সমান ৯৫ জয় দুই দলের। ড্র হয়েছে ৫১টি ম্যাচে।







