সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের রেমিটেন্স পাঠানোর হার আরও কমেছে। জানুয়ারিতে রেমিটেন্স পাঠানোর হার প্রায় ৭ শতাংশ কমে সর্বনিম্নে নেমেছে। বিদেশীদের জন্য খারাপ খবর হলেও নিজেদের জন্য এটাকে ভালো চোখেই দেখছে সৌদি আরব। দেশটির ইংরেজি দৈনিক আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানাে হয়েছে।
তেলের দাম পড়ে যাওয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি আরব। সেই সংকট কাটাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল, সব কোম্পানিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশীয়দের অগ্রাধিকার দেয়া।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের জানুয়ারির তুলনায় ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারিতে যেখানে বিদেশীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল ১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন রিয়াল (সৌদি মুদ্রা), সেখানে ডিসেম্বরে পাঠানো রেমিটেন্স দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন। মোট কমেছে ৯০৭ মিলিয়ন রিয়াল।
তবে গত বছর জুড়ে রেমিটেন্স প্রবাহ কমলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে। এই সময়ে গত ১২ মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।
সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স পাঠানাের রেকর্ড ছিল ২০১৫ সালের জুনে। সেসময় ১৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন রিয়েল ট্রান্সফার করে বিদেশীরা। যা চলতি বছরের জানুয়ারির চেয়ে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে রেকর্ডের পরের মাসেই রেমিটেন্স পাঠানোর সর্বনিম্ন রেকর্ড হয়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর ওই সময়ে মাত্র ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন রেমিটেন্স পাঠায় বিদেশীরা।
২০১৬ সালে বিদেশী কর্মীরা মোট রেমিটেন্স পাঠায় ১৫১ দশমিক ৯ বিলিয়ন রিয়াল। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ১৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন রিয়াল। ৩ শতাংশ হারে বিদেশীদের রেমিটেন্স কমেছে ৫ বিলিয়ন রিয়াল। ২০০৫ থেকে ২০১৫ টানা ১১ বছর সৌদি অর্থনীতির স্থিতি অবস্থার পর এই হাল হলো।







