বার্মিংহাম থেকে: ভারতের গতিময় পেসারদের সামনে যেভাবে ব্যাট করছিলেন, মনে হচ্ছিল এমন কঠিন পরিস্থিতি আগে বহুবার সামলেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে এজবাস্টনের ২২ গজে শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে যে বীরত্ব দেখিয়েছেন, বাংলাদেশ জিতলে সেটি হয়ে যেত অবিস্মরণীয় কিছু।
ম্যাচ শেষে তাই ভারতীয় এক সাংবাদিকের কাছ থেকে প্রশ্ন এলো স্টিভ রোডসের কাছে, সামনে সাইফউদ্দিনকে উপরের দিকে ব্যাটিং করানোর চিন্তা করা করা হবে কিনা? ভবিষ্যতে কী হবে সে ব্যাখ্যায় যাননি বাংলাদেশ কোচ, তবে আট নম্বর পজিশনে সাইফউদ্দিনকে ‘সেরা’ বলে দাবি করেছেন এ ইংলিশম্যান।
৩৮ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয়ের কাছ থেকে ফিরে আসা সাইফউদ্দিন নিজে কী ভাবছিলেন ব্যাটিংয়ের সময়? কোচের সংবাদ সম্মেলন শেষে মিক্সড জোনে এসে সেই কৌতূহলও মেটালেন, ‘হয়ত আন্তর্জাতিক ম্যাচ জেতাইনি, তবে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সিরিজে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে একটা ম্যাচ জিতিয়েছিলাম। আমি বারবার ওই দিনের কথা স্মরণ করছিলাম, চিন্তা ছিল আজ সেরাটা দিবো। দুর্ভাগ্য হয়নি।’
‘হয়ত আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজেকে শো করতে পারিনি। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ঘরোয়া লিগে এমনকিছু পরিস্থিতি সামলেছি। ওখানকার অভিজ্ঞতা মনে করে আমি ব্যাটিং করছিলাম।’
২০১৫ সালের এপ্রিলে বন্দরনগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রোটিয়া যুবাদের বিপক্ষে ৪০ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ জিতিয়েছিলেন সাইফউদ্দিন। ২ বল আগে পাওয়া এক উইকেটের সে জয়ের স্মৃতিটাই এজবাস্টনে ফিরে এসেছিল! সেবার সফল হলেও এবার পারেননি রুবেল ও মোস্তাফিজ পরপর দুই বলে বোল্ড হওয়ায়।
প্রথমবার বিশ্বকাপে এসে সময়টা দারুণ গেছে সাইফউদ্দিনের। বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট। ব্যাট হাতে রেখেছেন প্রতিভার ছাপ। তবে এসব একটুও সান্ত্বনা দিতে পারছে না এ তরুণকে। সেমিফাইনালে উঠতে পারলে সব অর্থবহ হত বলে জানালেন।
‘ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে আমি কখনোই ভাবি না। যদি উইকেট না পেতাম, রানও না করতাম, তবুও যদি দল সেমিফাইনাল খেলতো, ভালো লাগত। নিজেরে কাছে ভালো লাগত। দল যদি সেমিফাইনালে যেত তাহলে হয়ত এসব স্মরণীয় করে রাখতে পারতাম।’







