যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক পরিচিতি পাওয়ার পর এবার লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকটে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানকে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কেবল কূটনৈতিক নয়, বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও জড়িত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ)-এর ডেপুটি কমান্ডার সাদ্দাম হাফতারকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান। এর আগে সাদ্দাম হাফতার তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন। বর্তমানে লিবিয়ায় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন রয়েছে। রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল ইউনিটি (জিএনইউ) জাতিসংঘের স্বীকৃত সরকার, যা তুরস্ক ও কাতারের সমর্থনপুষ্ট। অন্যদিকে বেনগাজিভিত্তিক গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল স্ট্যাবিলিটি (জিএনএস) সামরিকভাবে সমর্থিত হচ্ছে খলিফা হাফতারের এলএনএ দ্বারা এবং এর পেছনে রয়েছে মিশর, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পাশাপাশি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। একটি প্রস্তাবিত ৩৬ মাসের পুনর্মিলন পরিকল্পনা নিয়েও দেশটি কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের দৃষ্টি বেশি আকর্ষণ করেছে একটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান এলএনএর সঙ্গে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে। চুক্তির আওতায় চীন-পাকিস্তান যৌথভাবে নির্মিত ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান এবং ১২টি সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের বিষয়টি রয়েছে। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এটি কোনো আরব দেশের কাছে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের প্রথম রপ্তানি হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ২০১১ সালে লিবিয়ার ওপর আরোপিত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এলএনএর সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। ফলে ইসলামাবাদের ভূমিকা মানবিক বা শান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলেই বেশি মনে হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লিবিয়া ইস্যুতে সক্রিয় হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চাইছে, অন্যদিকে অস্ত্র রপ্তানি বাজারে প্রবেশ এবং জ্বালানি-সমৃদ্ধ অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান শক্ত করার সুযোগ খুঁজছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান এখনো লিবিয়ার মতো জটিল সংকটের প্রধান নিয়ামক শক্তি নয়। মিশর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দেশটির প্রভাব সীমিত। তবুও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা পাকিস্তানকে আলোচনার টেবিলে একটি গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।







