নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি’র প্রতিবাদে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ কোনো রকম ব্যবস্থা নেওয়া থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের হাইকোর্ট।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই এর বরাতে এনডিটিভি জানায়, আদালতের এই রায়কে লজ্জার বলে উল্লেখ্য করেছেন আইনজীবীরা।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধীতা করে গত রোববার বিক্ষোভের আয়োজন করে জামিয়ার শিক্ষার্থীরা, সেখানেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে শিক্ষার্থীদের। এর জেরে কোনো অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। তারপরেই দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুরু হয় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ।
একজন আবেদনকারী জামিয়া মসজিদের ইমামের তরফে মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। পুলিশ সেখানে বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং ‘অহেতুক, অত্যাধিক, ইচ্ছাকৃত এবং ব্যাপকভাবে বলপ্রয়োগে’ করেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, যাতে তারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গল্প সাজানোর সময় না পায়।
সেখানে আরও বলা হয়, প্রত্যেক নাগরিকেরই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার আছে, এবং এই ধরণের বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা।
আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের পর ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দিল্লি, উত্তর প্রদেশ ও লখনৌতে ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে ভারতের ছাত্র সমাজ।
শুধু ছাত্ররাই নয়, বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন স্তর ও ধর্মের লোকজন। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভ ইতোমধ্যে রূপ নিয়েছে গণআন্দোলনে। অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
দিল্লির জামিয়া ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সন্ধ্যা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় দিল্লির জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। মধ্যরাতেই গর্জে ওঠে হায়দ্রাবাদের মৌলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। সকাল থেকেই জামিয়ার শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে নামে টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সাইন্স, আইআইটি মুম্বাই ও লখনৌর নাদওয়া বিশ্ববিদ্যালয়।








