বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সাতশৈয়া এলাকায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী (অটিস্টিক) কিশোরীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে রাছেক শেখ ওরফে সাইজে (৬৫) নামে এক মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় সে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। শারীরিক পরিবর্তন, বমি ভাব ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখে তার মা বিষয়টি অনুমান করেন। গতকাল শুক্রবার ২২ মে, পেগনেন্সি কিড দিয়ে পরীক্ষা করলে গর্ভধারনের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে উপজেলার একটি ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে গাইনী চিকিৎসকের মাধ্যমে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে এর সত্যতা মেলে। এরপর পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে সে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করে। পরে ওই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটলে একটি মানবভ্রূণ বের হয়। ভ্রূণটি পরিবারের পক্ষ থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিকটিমের ছোট ভাই স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে নিয়মিত খাবার পৌঁছে দিতেন। মাঝে মধ্যে ওই ভিকটিমও ভাইয়ের জন্য খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় যেত। মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে সড়কে অভিযুক্ত রাছেক শেখের একটি মুদি দোকান রয়েছে। গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে কোনো একদিন দুপুরে ভাইকে খাবার দিয়ে ফেরার পথে অভিযুক্ত তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভয়ভীতি দেখানোর কারণে সে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত রাছেক শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভ্রূণ এবং ডিএনএ পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর এর আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।








