দশ কদম দৌড়ে অল্প গতিতে বোলিং। পরের বলটা করতে বোলিং মার্কে যাওয়ার আগে খানিক বিরতি। নেটের একপাশে দাঁড়িয়ে ভিডিও করতে থাকা কোর্টনি ওয়ালশ এগিয়ে এসে কী যেন বললেন। মোস্তাফিজও কিছু বোঝাচ্ছেন। এভাবে চলছে। মাঝে মাঝে গুরু-শিষ্যের আলাপ দীর্ঘ হচ্ছে। মিরপুরে প্রায় চারদিন ধরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে।
ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরে মোস্তাফিজকে নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করছেন এই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি। বোলিংয়ে ধার ফেরাতে একনিষ্ঠ মোস্তাফিজও।
দুপুরে মেঘলা আবহাওয়ায় মাঠের একপাশে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের অস্ট্রেলিয়ান কোচ সায়মন হেলমট সক্রিয় থেকে তার ক্রিকেটারদের রানিং করিয়েছেন। ডানপাশে ফুটবল খেলে ঘাম ঝরাতে দেখা যায় মুশফিক-রিয়াদদের। কিন্তু সবার চোখ মাঝমাঠে; মোস্তাফিজ-ওয়ালশের ক্লাসে।

বলের সিমের ওপর সোজা করে আঙুল বসিয়ে বল ছাড়ছেন মোস্তাফিজ। মাটিতে বল পড়ে যাচ্ছেও সোজা। বোলিংয়ে কোনো বৈচিত্র্য নেই। কেবল ছাড়ার জন্য ছাড়া! অ্যাকশন রপ্ত করাই আসল উদ্দেশ্য। পায়ের অগ্রভাগ কোনমুখী হবে ওয়ালশ সেটি দেখালেন কয়েকবার। এভাবে তাদের ক্লাস চললো এক ঘণ্টা।
মোস্তাফিজকে ছুটি দিয়ে অন্য পেসারদের নিয়ে কাজ শুরু করেন ওয়ালশ। যেখানে আছেন অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকা সিরিজের জন্য প্রাথমিক দলে থাকা আল আমিন হোসেন, শফিউল, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মু্ক্তার আলী, শুভাশিস রায়। পেস বোলারদের নিয়ে ক্যাম্পের অংশ এটি।
বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হয়ে ওয়ালশ এসেছেন ১০ মাস হল। মূলত মেন্টরের ভূমিকাতেই দেখা গেছে তাকে। দূর থেকে বোলিং পর্যবেক্ষণ করে দেন প্রেসক্রিপশন। এজন্য মাঠে তার সক্রিয়তা খুব একটা দৃষ্টিগোচর হয়নি কখনো। বলাবলি হচ্ছিল, ওয়ালশের কাজটা আসলে কী? এবার খোলস ছেড়েছেন ওয়ালশ। ছুটি কাটিয়ে হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দেশে না ফেরায় বাড়তি ঘাম ঝরাতে হচ্ছে তাকে। আর তার পরিশ্রমের বড় অংশজুড়ে মোস্তাফিজ। যেভাবেই হোক কাটার মাস্টারকে নিজের আসল চেহারায় ফেরানোর চ্যালেঞ্জ তার।

কাঁধের অস্ত্রোপচার থেকে ফিরে নিউজিল্যান্ডে দুই ওয়ানডেতে চার উইকেট নিলেও চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। শ্রীলঙ্কা সফরে ৩ ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নিলেও ছিলেন খরুচে। এরপর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ৩ ইনিংসে বল করে নেন ৭ উইকেট। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রত্যাশার কিছুই পূরণ করতে পারেননি। বোলিং ছিল বিবর্ণ, ধারহীন। চার ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ১টি।
অথচ ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ১১ উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দেন মোস্তাফিজ। এ বাঁহাতি পেসারের বিষাক্ত কাটারে নাকানিচুবানি খায় ভারত। ঘরের মাঠে সাউথ আফ্রিকা সিরিজেও দেখা গেছে তার জাদুকরী বোলিং। ২০১৬ সালের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রথম শিরোপা জয়ে রেখেছিলেন বড় অবদান। সেই মোস্তাফিজ কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন!
ইংল্যান্ডে কাউন্টি দল সাসেক্সের হয়েও ভালো শুরু করেন। কাঁধের চোটে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলতে পারেন। পরে ওখানেই অস্ত্রোপচার করানো হয়। ৬ মাস পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার পর নিউজিল্যান্ড সিরিজে তাকে মাঠে দেখা যায়। আগের সেই মোস্তাফিজকে কবে পাওয়া যাবে; সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
ভিডিওতে মোস্তাফিজ-ওয়ালশ:








