ভিয়েতনামে অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে দেশটির সরকার। নিখোঁজ রয়েছে কমপক্ষে আরও ৪০ জন।
নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ভিয়েতনাম নিউজ এজেন্সি’র একজন সাংবাদিকও ছিলেন। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট তৈরির সময় বন্যার স্রোতের তোড়ে নদীর ওপর থাকা একটি সেতু ভেঙে পড়লে তিনি পানিতে ভেসে যান।
ভিয়েতনামের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল দিয়ে ক্রান্তীয় নিম্নচাপ প্রবাহিত হওয়ায় এই দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। তীব্র ঝড় ও বৃষ্টিপাতের কারণে দুর্যোগ কবলিত এলাকা থেকে হাজার হাজার অধিবাসীকে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে অন্তত ১৬ হাজার ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।
ভৌগলিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশ প্রায় তীব্র ঝড়-বৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। প্রতি বছরই দেশটিতে বন্যায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তবে এবারের মৃতের সংখ্যাটি বন্যায় ভিয়েতনামে সর্বোচ্চ মৃত্যু বলে রেকর্ড করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের ইয়েন বাই এবং হোয়া বিন প্রদেশে ঝড় বেশি তীব্রভাবে আঘাত হেনেছে। ভূমিধসে মাটিচাপা পড়ে একরাতেই হোয়া বিনে মারা গেছে ১৮ জন। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। ব্যাপক বন্যা ও মারাত্মক ভূমিধসে হতাহত ছাড়াও ঘরবাড়ি এবং স্থাপনা ভেসে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে সেখান থেকে।
বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজে কয়েকশ’ সেনাসদস্য নামানো হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সব বাহিনীকেই মোতায়েন করা হচ্ছে বলে ভিয়েতনামের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এবারের ঝড়ের ব্যাপারে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিম্নচাপটি আরও বেশি তীব্র হয়ে সামনের দিনগুলোতে অনেক বেশি শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হতে পারে।







