আবারও সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা করিম বেনজেমা। তার হেডে করা গোলে রিয়াল মাদ্রিদ হার এড়াতে না পারলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য সেটাই যথেষ্ট বলে হয়ে গেল।
প্রথম লেগে ৩-১ গোলে জয়ের পর দ্বিতীয় লেগে চেলসির কাছে ৩-২ গোলে হারল লস ব্লাঙ্কোস। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ চারে উঠল কার্লো আনচেলত্তির দল।
মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হওয়া কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের আগে বাস্তববাদী এবং নিয়তি নির্ভর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চেলসি কোচ থমাস টুখেল। স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে প্রথম লেগে রিয়ালের কাছে ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তার এমন প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই ধরে নিয়েছিল আবারও একই পরিণতি ব্লুদের সামনে অপেক্ষা করছে।
তবে চেলসি যে রোমাঞ্চ, উত্তেজনা ও নাটকীয়তা উপহার দিল, তাতে দিন শেষে ফুটবলের জয়ের বার্তাই যেন পাওয়া গেল। প্রতিপক্ষের উপর চড়াও হয়ে খেলে গেল।
১৫ মিনিটে টিমো ওয়ের্নেরের বাড়ানো বলে ডি বক্সের ভেতর দৌড়ে গিয়ে ডান পায়ে বল জালে জড়িয়ে চেলসিকে লিড এনে দেন ম্যাসন মাউন্ট।
বিরতির পর ৫১ মিনিটে মাউন্টের কর্নার কিকে হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নাটকীয়তার আভাস দেন অ্যান্টনিও রুডিগার। তখন দুই লিগ মিলে ৩-৩ ব্যবধানে বিরাজ করছিল সমতা।
৬২ মিনিটে ঘটে যাওয়া মুহূর্তটিকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়। মার্কোস আলোনসো গোল করে চেলসিকে আনন্দে ভাসিয়েছিলেন। ভিএআরের শরণাপন্ন হয়ে রেফারি হ্যান্ডবলের সংকেত দিলে গোলটি বাতিল হওয়াতেই চেলসির কপাল পোড়ে।
৬৬ মিনিটে ফেরল্যান্ড মেন্ডির অ্যাসিস্টে পাওয়া বলে হেড নেন বেনজেমা। বল ক্রসবারে বাধা পাওয়ায় মনে হচ্ছিল রিয়ালের ভাগ্যটাও আজ তাদের পক্ষে নেই।
খেলার ৭৫ মিনিটে মাতেও কোভাসিচের বাড়ানো বল নিয়ে ডান পায়ের শটে টিমো ওয়ের্নের গোল করলে স্তম্ভিত হয়ে যায় বার্নাব্যুর গ্যালারি। কারণ স্কোরলাইন ৩-০ হয়ে যাওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে তখন এগিয়ে চেলসি।
৭৮ মিনিটে কাসেমিরোর বদলি হিসেবে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রদ্রিগোকে মাঠে নামিয়ে মাস্টার স্ট্রোক খেলেন আনচেলত্তি। দুই মিনিট পরই মেলে ফল। লুকা মড্রিচের ক্রসে বল নিয়ে ডান পায়ে নিশানাভেদ করে স্তব্ধ বার্নাব্যুকে জাগিয়ে তোলেন রদ্রিগো।
নির্ধারিত সময় শেষে দুই লেগ মিলিয়ে গোলের ব্যবধান ৪-৪ হওয়ায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।
৯৬ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কাছ থেকে বল আদায় করে হেডে গোল করে রিয়ালকে সেমির টিকেট পাওয়ানো মহামূল্যবান গোলটি করেন বেনজেমা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগের দুই ম্যাচে টানা হ্যাটট্রিক করা ‘সুপারম্যান’ বেনজেমা এবারের আসরে এক ডজন গোলের দেখা পেলেন। তার চেয়ে বেশি গোল কেবল বায়ার্ন মিউনিখের রবার্ট লেভান্ডোভস্কির, তার লক্ষ্যভেদ ১৩টি।
সেমিফাউনালে ম্যানচেস্টার সিটি অথবা অ্যাটলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলবে রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ।









