বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে নতুন প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান ইয়াকোলেভ ইয়াক-১৩০ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে কেনা সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমানগুলো বিমান বাহিনীর কিংবদন্তী ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ ইউনিট স্কোয়াড্রন-২১ এ যোগ করা হয়েছে। এশিয়ার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের কাছেই রয়েছে এই যুদ্ধবিমান।
এর সঙ্গে বিমান বাহিনীতে আরো সংযোজন হয়েছে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ হেলিকপ্টার এ ডব্লিউ-১৩৯।
বিমান বাহিনীর অন্তর্ভুক্তিকরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার বিমান বাহিনীর উন্নয়নে কখনো কার্পণ্য করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। বিমান বাহিনীর উন্নয়নে স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার, কক্সবাজারে হয়েছে বঙ্গবন্ধু কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ কবলিত এলাকায় আকাশ পথে ত্রাণসেবা পৌঁছানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। সামুদ্রিক এবং উপকূলীয় এলাকায় আপদকালীন সময়ে অনুসন্ধান ও সহায়তা প্রদানে বিমান বাহিনীর অবদান উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তার কাজের মধ্য দিয়ে প্রকৃত পেশাদারিত্বের পরিচয়ও দিয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন বলে ভাষণে জানান তিনি।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রেই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থানও তাৎপর্যপূর্ণ। সেক্ষেত্রে নিজস্ব নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী রণসজ্জা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন প্রযুক্তির ইয়াক-১৩০ বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু দেশে নয় বিদেশের মাটিতেও আপনারা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন অনেক পূর্ব থেকেই। বিভিন্ন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর সদস্যবৃন্দ দেশ ও জাতির জন্য গৌরব ও প্রশংসা বয়ে এনেছে।
“আমার দৃঢ় বিশ্বাস উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সরঞ্জামাদি ও ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দক্ষতা ও অপারেশনাল কার্যক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দেবে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আপনাদের যতটুকু সহায়তা দেয়া সম্ভব বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে কোনদিন কার্পণ্য করেনি; ভবিষ্যতেও করবে না।”
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি স্ফীত হচ্ছে এবং সর্বক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি।’
তিনি বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু তা কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না যদি আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকে। সেই আত্মবিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদা বোধ দিয়েই বাংলাদেশের জনগণ এগিয়ে যাবে বিশ্বে আপন মর্যাদায় স্থান করে নিবে। সেটাই আমরা চাই।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই বিমান এবং হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষাসহ প্রয়োজনে শত্রুদের আক্রমণ এবং সেনা ও নৌবাহিনীকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সর্বাধুনিক কমব্যাট ট্রেইনার এয়ারক্রাফট ইয়াকোলেভ ইয়াক-১৩০’র প্রথম চালানটি গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। বাংলাদেশ রাশিয়ার কাছ থেকে যে ১৬টি ইয়াক-১৩০ কিনেছে, প্রথম চালানে তার ছয়টি আনা হয়। বাকি ১০টি আগামী বছর নাগাদ সরবরাহ করা হবে।







