নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তাদের স্মৃতিচারণ ও প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তাদের স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
সোমবার বিকালে কেন্দ্রীয় গণ-গ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে নাগরিক সংগঠন ‘সুজন’ এর উদ্যোগে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করা হয়।
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্যাপী এই শোকসভায় নিহতদের স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও বিশিষ্টজনেরা ‘সুজন’ এর কেন্দ্রীয় সহযোগী সমন্বয়কারী সানজিদা হক বিপাশা, তার স্বামী রফিক জামান রিমু ও সন্তান অনিরুদ্ধ জামানসহ নিহত ৫২ জনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রথমে রিমু ও বিপাশার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাদের স্বজন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিগণ। এরপর রিমুর মাসহ নিহতদের স্বজনরা ও উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
পরে আগুনের পরশমনি গানের সাথে নিহতদের স্মরণে ৫২টি মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয় ‘সুজন’র পক্ষ থেকে।
শোকসভায় নিহত রিমু ও বিপাশার কর্মময় জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয় স্লাইডের মাধ্যমে। বিপাশার ছোট ভাই শাহরিয়ার পরিবারের গল্প, বিপাশার কর্মকাণ্ড ও স্মৃতিতে গেঁথে থাকা ভাই-বোনের আনন্দময় শৈশবের কথা বলেন। রিমু, ভাগ্নে অনিরুদ্ধর কথা বলার সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
শাহরিয়ার বলেন, অনিরুদ্ধ ক্রিকেট পাগল ছেলে ছিল। ওর মা যখন বাইরে থাকত ফোন করে বলত ‘আমি মাশরাফি বলছি, আপনি কি বিপাশা’?
তিনি নিহত সকলের জন্য দোয়া চান এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে সে জন্য কর্তৃপক্ষকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন।
রফিক জামান রিমুর বড় ভাই রিয়াদ জামান বলেন, রিমু সেই ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ ও পিছিয়ে পরা মানুষদের নিয়ে কাজ করেছে। এভাবে চলে যাবে এখনও চিন্তা করতে পারিনা। আমরা ওর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব। আপনারা সবাই ওদের জন্য দোয়া করবেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘বিপাশা আমার মেয়ের মত ছিল। ১০-১২ বছর ধরে এক সাথে অসংখ্য সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন করেছি। ওর প্রচুর গুণ ছিল, কাজে অনেক দক্ষ ছিল। এখনও প্রতিদিন আমার বাড়িতে ওকে নিয়ে কথা হয়। আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয়।’
‘আমি চাই না এ ধরনের অনুষ্ঠানে আর কোন দিন আসতে। বিমান ও বিভিন্ন সংস্থার কর্তৃপক্ষরা আরও দায়িত্ববান হবেন। আমাদের যেন আর কখনও এ ধরনের শোকসভার আয়োজন করতে না হয়।’
এ দিকে শোকসভায় জানানো হয় সুজন’র পক্ষ থেকে সৈয়দ আবুল মকসুদকে সভাপতি করে বিপাশা-রিমুর স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘স্মারক গ্রন্থ’ প্রকাশ করা হবে।
শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এ টি এম শামসুল হুদা, বিচারপতি আব্দুল মতিন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আসিফ নজরুল, ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।








