সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে মানা হয়নি বৈদেশিক মুদ্রা আইন। বিদেশী খেলোয়াড়দের পক্ষে উৎসে কর পরিশোধের কথা থাকলেও কারো ক্ষেত্রেই তা মানা হয়নি বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে দায়টা বিসিবি নাকি ফ্রাঞ্চাইজির এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ফ্রাঞ্চাইজি এবং বিসিবি এখন একে অপরের ওপর দায় চাপাতে ব্যস্ত।
বিতর্কের নিষ্পত্তিতে বিসিবিকে পরপর তিন বার রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো উত্তর মেলেনি বলে এনবিআর অভিযোগ এনেছে।
এ ব্যাপারে চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষ থেকে বিপিএলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিদেশী খেলোয়াড়দের আয়কর পরিশোধের দায় আমাদের না। এটা ফ্রাঞ্চাইজি গুলোর দায়িত্ব। তারা যদি পরিশোধ না করে তাহলে জামানতের টাকা থেকে কর পরিশোধ করা হবে।’
কোনো বিদেশী নাগরিককে বাংলাদেশ থেকে বিদেশী মুদ্রায় পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন হয়। সেসঙ্গে আয়ের বিপরীতে আয়কর হিসেবে ওই বিদেশির মোট আয়ের ৩০ শতাংশ আয়কর হিসেবে প্রদানের নিয়ম রয়েছে। আর বাংলাদেশের যে প্রতিষ্ঠান বিদেশিকে পারিশ্রমিক দেবে ওই প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট বাবদ সরকারকে দিতে হবে মোট প্রদানের ১৫ শতাংশ।
কিন্তু, বিপিএল সিজন থ্রিতে এ নিয়মের ধারে কাছ দিয়ে যায়নি কেউ। এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তি এবং কর আদায়ের লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে ঢাকা কর অঞ্চল-৭’র কর কমিশনার সনজিত কুমার বিশ্বাসকে।
সূত্র জানায়, বৈদেশিক মুদ্রায় পাওনা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও ফ্রাঞ্চাইজি গুলো ওই নিয়মও মানেনি।
বিপিএল সিজন থ্রি’ত ছয় দলের হয়ে খেলেছেন ৫১ জন বিদেশি ক্রিকেটার। ন্যূনতম ৩০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বিদেশি ক্রিকেটারদের যে পারিশ্রমিক দিয়েছে তাতে ওই ক্রিকেটারদের প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের ট্যাক্স (৩০ শতাংশ) থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাওনার পরিমাণ ৪ কোটি ৫২ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
বিদেশি খেলোয়াড়দের পক্ষে কর না দেওয়া হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যে ৪৪ জন বিদেশী শিল্পী অংশ নেন তাদের পক্ষে ৪০ লাখ টাকা কর পরিশোধ করা হয়েছে।






