বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রংপুরের বিক্ষুব্ধ বিড়ি শ্রমিকরা। মিছিলটি রোববার রংপুর শহরের পায়রা চত্বর থেকে সকাল ১১ টায় শুরু হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে বিড়ি শ্রমিকরা সেখানে একটি সমাবেশের আয়োজন করে।
বিড়ি শ্রমিকরা জানায়, চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে হয় তাদের। অন্য যে কোনো কাজের তুলনায় মজুরিও কম। এক হাজার বিড়ির শলাকা তৈরি করে পাওয়া যায় ২১-২৭ টাকা। একজন শ্রমিক একদিনে গড়ে ৫ হাজার বিড়ির শলাকা উৎপাদন করতে পারে। তাই বিড়ি শ্রমিকদের দৈনিক গড় আয় ১৩৫ টাকার বেশি নয়। অন্যদিকে সপ্তাহে তিন চার দিনের বেশি কাজও থাকে না।
বিড়ি শিল্পের কাজে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও অন্যান্য কাজ থেকে অনেক বেশি। বিড়ি কারখানার ভেতর তামাকের গুঁড়ার কারণে ঠিক মতো শ্বাস নেয়া যায় না। ফলে সারা বছরই তাদের নানা ধরনের অসুখে ভুগতে হয়।
বিড়ি কারখানায় কাজ করলে একজনের আয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হওয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের শিশু, নারীসহ সবাইকেই বিড়ি তৈরির কাজ করতে হয়। ফলে একদিকে যেমন সন্তানদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়, অন্যদিকে সেই শিশুদের বড় হয়ে বিড়ি শ্রমিক হিসেবেই জীবনযাপন করতে হয়।
এসব বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধ বিড়ি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে নেতারা বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
এসব দাবির মধ্যে রয়েছে – বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা, সেসব কারখানায় বিড়ি শ্রমিকদের অগ্রধিকার ভিত্তিতে চাকরি দেয়া, বিড়ির কাজ ছাড়তে সাময়িক আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে কারিগরিসহ দক্ষতা উন্নয়ন সহায়তা দেয়া্ এবং বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে ওই অঞ্চলের শ্রমিকদের প্রাধান্য দেয়া।







