ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। এতে আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। পাশাপাশি এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চললেও সীমিত সক্ষমতার কারণে অনেক দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনও পৌঁছাতে পারেননি।
সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজধানী কারাকাস।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে, যা সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র হয়েছে। এরপরও নিখোঁজ স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের আশপাশে অবস্থান করছেন।
তাদেরই একজন মিরেল্লা হেরেরা। ধসে পড়া ভবনের পাশে ছেলের অপেক্ষায় থাকা এই নারী সিএনএনকে বলেন, এই অপেক্ষা মানুষকে পাগল করে দেওয়ার মতো। নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পানি পান করছি, হাঁটছি। শুধু ভাবছি, তারা যদি এখনও বেঁচে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ স্যাটেলাইটের ২৫ জুনের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মূল্যায়ন দিয়েছেন। তবে তারা এটিকে একটি প্রাথমিক ও দ্রুত প্রস্তুত করা মূল্যায়ন বলে উল্লেখ করেছেন।







