সাত বছর বয়সী ছোট্ট জুলিয়ান ক্যাডম্যান নাচতে ভীষণ ভালোবাসত। পকেটে লেগো খেলনার টুকরো ভর্তি করে ঘুরে বেড়াত সে। মায়াভরা চেহারার ছোট্ট শিশুটিকে আর কেউ এভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখবে না, দেখবে না দুষ্টুমি করতে।
ব্রিটিশ নাগরিক জুলিয়ান আর তার মা জুমারি ক্যাডম্যান স্পেনের বার্সেলোনা শহরে এসেছিলেন এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। এর মাঝেই বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসীদের গাড়ি হামলার শিকার হন তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় জুমারিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও জুলিয়ানকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
ওই গাড়ি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আহত হয়েছে শতাধিক। হামলার পর শনিবার স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে এবং জানায়, আর কোনো ছোট বাচ্চাকে খুঁজে পাওয়ার আশা তারা করছে না। তাই খোঁজার চেষ্টা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
শনিবার জুলিয়ানের বাবা অ্যান্ড্রু অস্ট্রেলিয়া থেকে ছুটে আসেন পরিবারের জন্য। পুলিশ ও স্বজনদের বারবার চেষ্টার পরও জুলিয়ান বা তার দেহাবশেষ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে এক শিশুর মৃতদেহ থাকার কথা জানিয়েছে। তাদের ধারণা সেটি জুলিয়ানের। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারকে দিয়ে এখনো মৃতদেহ সনাক্ত করানো হয়নি।
এমনই করুণ আর মর্মান্তিক একেকটা ঘটনা বার্সেলোনা গাড়ি হামলার ভিক্টিমদের। আরেক স্প্যানিশ শিশু ওই হামলায় তার মায়ের সঙ্গেই ঘটনাস্থলে মারা যায়। তারা আত্মীয়দের সঙ্গে ওইদিন বেড়াতে বের হয়েছিল।
প্রথম বিয়ে বার্ষিকীতে মধুচন্দ্রিমায় বার্সেলোনা বেড়াতে এসেছিলেন জ্যারেড টাকার ও হাইডি ন্যুনস। সুখের সাগরের বদলে রক্তের বন্যায় ভাসতে হলো তাদের। ছবিটি ভয়াবহ ওই ঘটনার মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে তোলা। হামলার তোড়ে তারা আলাদা হয়ে যান। হাইডি একটি উপহারের দোকানের আড়ালে চলে গেলেও জ্যারেড সরাসরি ভ্যানের ধাক্কায় মারা যান।
কানাডিয়ান এক পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় আরেক আগন্তুককে। ওই পরিবারের তিনজনের মধ্যে ইয়েন মুর উইলসন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার স্ত্রী ভ্যালেরিকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাকিরা বাঁচানোর চেষ্টা করার সময় একটু ভালো অবস্থায় থাকায় তাদের নাতিকে তুলে নিজের স্কুটারের পেছনে বসিয়ে হাসপাতালের দিকে ছুটতে দেখা যায় ওই আগন্তুককে।
৩৫ বছর বয়সী ইটালীয় ব্রুনো গুলোটা স্ত্রী মার্টিনা আর দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটি কাটাতে বার্সেলোনা এসেছিলেন। এমন সময় সন্ত্রাসীদের ভ্যানটা তাদের দিকে এগিয়ে এলে উপায় না দেখে পাঁচ বছরের ছেলেকে বাঁচাতে হাঁটু মুড়ে তার সামনে ঢালের মতো দাঁড়িয়ে যান ব্রুনো। ঘটনাস্থলেই ভ্যানের চাকার তলায় তার প্রাণ যায়।
আরেক বেলজিয়ান ব্যাংক কর্মকর্তা এলকে ভ্যানবকরিজ্ক স্বামী আর দুই ছোট ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে দেন হামলায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের ভাষায়, তিনি ‘সুপার ওমেন’-এর মতোই পরিবারকে রক্ষা করেছিলেন।
হতাহতদের মধ্যে জার্মানি, স্পেন, চীন, কলম্বিয়া, ফ্রান্স, হন্ডুরাস, মরক্কোসহ মোট ৩৪ দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে টেলিগ্রাফ।








