গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিশজন সবাই বিদেশি না কেউ কেউ দেশি, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আইএসপিআরের সংবাদ সম্মেলন এবং সংবাদমাধ্যমে তাদের পাঠানো প্রথম বিবৃতিতে রেস্টুরেন্টের ভেতরে নিহত ২০ জনই বিদেশী নাগরিক বলা হলেও পরে আরেকটি সংশোধনীতে শুধু ২০ জনের লাশ উদ্ধার বলা হয়েছে।
ওই ঘটনার পর থেকে নিহত হিসেবে অন্তত ৩ জন বাংলাদেশীর নাম বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। যাদের নাম ফারাজ হোসেন, আবিন্তা কবীর এবং ইশরাত আকন্দ । 
আইএসপিআরের সংশোধনী বিবৃতিতে নিহতদের পরিচয় হিসেবে দেশি বা বিদেশি কোনোটাই উল্লেখ করা হয়নি। দেশি কতজন, বিদেশী কতজন তাও জানানো হয়নি। তবে সেখানে নিহতদের বেশিরভাগই বিদেশী বলেই জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য নিহতদের পরিচয় ময়নাতদন্তের পরে জানা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কোনো প্রশ্ন থাকলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রভোস্ট মার্শালের সঙ্গে ০১৭৬৯০১২৫২৪ নাম্বারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী।
বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া, ওই হামলায় নিহতদের একজন ইশরাত আকন্দ ঢাকার একটি আর্ট গ্যালারির সাবেক প্রধান। আর ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান লতিফুর রহমানের মেয়ে সিমিন হোসেনের ছেলে ফারাজ হোসেন। আইএসপিআরের সংবাদ সম্মেলন বা তাদের বিবৃতিতেও এই দুজনের নিহতের খবর সামনে আসেনি।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে গুলশানের হলে আর্টিজান রেস্টুরেন্টে ঢুকে হামলা চালায় ৭ জনের একটি জঙ্গি দল। তলোয়ার ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তারা রেস্টুরেন্টে ঢুকে সেখানে থাকা মানুষদের জিম্মি করে। পরে পুলিশ উদ্ধার কাজে নামলে জঙ্গিদের ছোঁড়া গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে নিহত হন বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ খান এবং ডিবির এসি রবিউল ইসলাম।
দীর্ঘ চেষ্টার পর ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে শনিবার সকালে সাড়ে বারো মিনিটের যৌথ অভিযানে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৬ জঙ্গি নিহত হয়, পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয় একজনকে। অভিযান শেষে রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের রাতেই গলাকেটে ও গুলি করে তাদের হত্যা করে জঙ্গিরা।








