আজ চিত্রনায়িকা পারভীন সুলতানা দিতির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তাকে স্মরণ করে লিখেছেন নির্মাতা শায়ের খান।
অভিজ্ঞতায় দিতি আপা আমার অনেক সিনিয়র। বড়–ছোট সব পর্দায় ওনার সমান বিচরণ। আমি ছোট পর্দার ছোট মানুষ। তবে কমেডি নির্মাণে তখন নাম কুড়িয়েছি। ভালোই কুড়িয়েছি।
দিতি আপাকে কমেডিতে লাগবে। ভাবলাম, করতে পারবে? তারপরই মনে হলো করানোর দায়িত্ব তো আমার। নইলে লেখক-নির্মাতা হলাম কেন? এর আগে আমার একটি মেসেজপুর্ণ নাটকে সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
কমেডি সিরিয়াল ‘সুন্দরী ও কাকের ছানা’র স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসলাম দিতি আপার সঙ্গে। এটি ভিন্নধর্মী কমেডি। সম্পুর্ণ সিরিয়ালের ডায়ালগ লিখেছি অন্তমিল ছন্দে ছন্দে। খুবই মজা পেলেন। স্ক্রিপ্টটা এমন ভাবে ধরলেন যেন হাত পিছলে পড়ে যাবে। চরিত্রটি সুন্দরী ১ মেয়ের সিংগেল মা, রিচ লেডি।
উনি শুধু মাথা নাড়লেন। অর্থ, ডোন্ট ওরি।
শুটিংয়ের দিন আমি অবাক! এরকম চোখা পেনসিলের মতো রিচ লেডি খুব কম দেখা যায়। চরিত্রের আদলে নিজের চেহারা কমেডি ধাঁচে নিয়ে এসেছেন।
মেকআপ নিতে নিতে বললেন, ‘শায়ের খান, ইয়োর নেম ইজ খান, না?
বুঝলাম, সম্পুর্ণ স্ক্রিপ্ট পড়েছেন, আমাকে অলিখিত সার্টিফিকেট দিলেন।
এই সিরিয়ালে অভিনয় করতে সবারই বেগ পেতে হত। ছন্দ মিলিয়ে এক্সপ্রেশন কাউন্টার এক্সপ্রেশনে মজাটাও রাখতে হচ্ছে। দিতি আপা হোচট খেয়েছেন খুব কম। ঝরঝরা মুখস্ত করে এসেছেন। শুধু তা–ই না; সেট রেডি করতে, সহশিল্পীদের মেকআপ, গেটআপেও সহায়তা করছেন—যেন আমার পাক্কা সহকারী! মজা পেয়ে গেছেন। একেই বলে জাত শিল্পী।
একটি রহস্যপুর্ণ ব্যাপার খেয়াল করলাম। এই শুটিংয়ের স্পটে হঠাৎ হঠাৎ কিছু অপরিচিত মানুষের আনাগোনা। অ্যাসিস্ট্যান্টদের জিজ্ঞেস করলে ফিসফিসিয়ে বলত, দিতি আপার গেস্ট। ভয়ের কিছু নাই, দিতি আপাই কাউকে কাউকে ডাকিয়ে এনেছেন দেখাতে, ‘দেখো, কী যজ্ঞ চলছে বাংলাদেশের কমেডি নাটকে। এর আগে দেখেছ কখনো?’
দিতি আপা, তোমাকে মিস করছি। তুমি বেহেশতে শান্তিতে ঘুমাও।









