ভুলে ভরা ব্যাটিংয়ে আগে ব্যাট করে কূলহারা বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সম্বল ১৩৯। ১২০ বলের ম্যাচে ৫৫টি ডেলিভারিতে কোনো রান নিতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা!
ব্যাটিং উইকেট। সেটা পিচ রিপোর্টের সময় বলে যান ব্রেট লি। পাওয়ার প্লেতে রান তুলতে সৌম্য-তামিম শুরু থেকে চালিয়ে খেলতে থাকেন। কিন্তু তাতে একটুও নড়ে যাননি ভারতীয় বোলাররা। জোন ঠিক রেখে একের পর এক ডেলিভারি দিতে থাকেন। ফিল্ডাররা ক্যাচ মিসের মহড়া না দিলে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় আরও আগে।
প্রথম ওভারের শেষ বলে থার্ডম্যানে উঠিয়ে দেন সৌম্য। তিন ফিল্ডার চলে আসায় কেউ বলের নিচে যাননি। সরকার শেষ পর্যন্ত ফেরেন তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে। এমন একটি বলে ফ্লিক করে ফাইন-লেগে ধরা পড়েন, যেটি পুল করতে পারতেন। তার সংগ্রহ ১২ বলে এক চার, এক ছয়ে ১৪।
অভিজ্ঞ তামিমও এদিন বেশি তাড়াহুড়ার বলি। তিনি বাঁচেন দুইবার। চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে ওয়াশিংটন সুন্দরকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন। ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা ডাইভ দিয়ে বল হাতে নিয়েও রাখতে পারেননি। এরপর এলবিডব্লিউ থেকে রিভিউ নিয়ে জীবন পান।
পঞ্চম ওভারের শেষ বলে আর পার পাননি। শারদুল ঠাকুরের বডিলাইন বরাবর শর্ট বলে মিসটাইমিং পুলশট খেলে শর্টস্কয়ার লেগে ধরা পড়েন। ১৬ বলে দুই চারে তার সংগ্রহ ১৫।
এরপর লিটন দাস আর মুশফিক। বারবার দুজনে ভুল শট খেলতে থাকেন। তিন নম্বরে নামা লিটন সপ্তম ওভারে জীবন পান দুইবার। মিডঅফে রায়নার হাত থেকে সহজ ক্যাচ পড়ার পর ওয়াশিংটন সুন্দর ক্যাচ ছাড়েন। বোলার ছিলেন বিজয় শঙ্কর।
বারবার ভুল শট খেলতে থাকলে ব্যাটসম্যানরা অধৈর্য হয়ে পড়েন। মুশফিকের আউট দেখে সেটি স্পষ্ট বোঝা গেছে। না হলে অফস্টাম্পের অত বাইরের বলে তার ওভাবে ব্যাট দিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়ার কথা নয়। ১৪ বলে মুশির সংগ্রহ ১৮।
অধিনায়ক রিয়াদের আউট বাংলাদেশের জন্য আরও হতাশার। অফসাইডের ডিপ পজিশনে যে একজন ছিলেন রিয়াদ তার হাতেই ক্যাচ দেন। ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে বিজয় শঙ্করকে পয়েন্টের উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে সুইপার কাভারে শারদুল ঠাকুরের হাতে ধরা পড়েন। আট বলে তিনি করতে পারেন এক।
লিটন দাস শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৩৪ করে ফেরেন। লেগস্পিনার যুবেন্দ্র চাহালকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লংঅফে রায়নার হাতে ধরা পড়েন। মিডলস্টাম্পে স্লো ডেলিভারি দেন। লিটন স্টেপআউট করে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে বোকা বনে যান।
টপঅর্ডারের এমন ব্যাটিংয়ের দিন লোয়ার অর্ডারেও কেউ ব্যতিক্রম কিছু করতে পারেননি। মিরাজ ফেরেন চার বলে তিন রান করে। ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে উনাদকাটকে পুল করতে গিয়ে লংঅনে মনিষ পাণ্ডের হাতে ধরা পড়েন। পুল করার মতো পজিশনে না থেকেও ‘চেষ্টা’ করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন।
ছয় নম্বরে নামা সাব্বির ২৬ বলে ৩০ করেন। উনাদকাটের ওয়াইড ওয়ার্কারে ব্যাট দিয়ে দিনেশ কার্তিকের হাতে ধরা পড়েন। রিভিউ চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। থার্ডআম্পায়ার জানিয়ে দেন বল ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে যায়।
শেষ দিকে মোস্তাফিজ আর তাসকিন অলআউট হওয়ার হাত থেকে দলকে ‘রক্ষা’ করেন।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ এর আগে পাঁচটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। একটিতেও জয় নেই। এই ম্যাচেও জয়ের আশা করা দুঃসাহস। কেননা এই মাঠে প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারত ১৭৪ করেও হেরেছিল।
ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়না, মনিষ পাণ্ডে, দিনেশ কার্তিক, রিশভ পান্ট, ওয়াশিংটন সুন্দর, বিজয় শঙ্কর, শারদুল ঠাকুর, জয়দেব উনাদকাট, যুবেন্দ্র চাহাল।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ এবং নাজমুল ইসলাম অপু।







