নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত গুলশান, শোলাকিয়া ও কল্যাণপুরে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী কানাডা প্রবাসী জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরীসহ তিনজন এবং জড়িত অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামী করে সন্ত্রাস দমন আইনে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান মামলা করেছেন।
অপারেশন হিট ষ্ট্রং-এ নিহত তামিম চৌধুরীর সহযোগী দুই জঙ্গির একজন যশোরের ফজলে রাব্বি, অন্যজন রাজধানীর ধানমণ্ডির তৌসিফ হাসান বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন।
রোববার তামিম চৌধুরীসহ ৩ জঙ্গির মরদেহ ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তামিম চৌধুরীর মরদেহের ময়নাতদন্তকারী দল তার মাথার চুল এবং উরুর মাসল সংগ্রহ করে রেখেছে।
এছাড়া পুলিশের অভিযানের আগে তামিম চৌধুরী এবং তার সঙ্গীরা উত্তেজক কিছু খেয়েছিল কিনা তা জানতে ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত দলের প্রধান সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, তামিম চৌধুরীর মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন নেই।
নারায়ণগঞ্জে ওই তিন জঙ্গি নিহতের ঘটনায় আটক বাড়ির মালিককে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। তথ্য গোপনের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় গোরস্থানের কাছে একটি বাসায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে সহযোগীসহ নিহত হয় তামিম চৌধুরী। শনিবার সকাল থেকে ‘হিট স্ট্রং-টোয়েন্টি সেভেন’ নামে সেখানে অভিযান চালায় ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।
এর আগে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, শনিবার সকাল ৮টার দিকে পাইকপাড়া কবরস্থানের পাশে ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা। এক ঘণ্টা প্রস্তুতির পর সকাল ৯টার দিকে অভিযান শুরু হয়।
এর মধ্য দিয়ে তামিম চৌধুরী ‘চ্যাপ্টার’এর সমাপ্তি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।








