টাঙ্গাইলে বাসার ভাড়া দিতে দেরি হওয়ায় অসহায় মধ্যবয়সী নারী খুশি বেগমকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় মুলহোতা রনিসহ চার জনকে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে শহরের শিমুলতলী বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছে, রনি, তার ভাই রুবেল, বোন চাদনী, রনির স্ত্রী শিউলী।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, খুশি বেগমের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষনিকভাবে শিমুলতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহরের শিমুলতলী মান্নান উকিলের বাসায় খুশি বেগম, সাজেদা বেগমসহ চার মহিলা বাসা ভাড়া করে থাকতেন। গত তিন মাস আগে সাজেদা বেগমসহ দুজন পালিয়ে যায়। পরে খুশি বেগমের বাসা ভাড়া দিতে কষ্ট হওয়ায় মান্নান উকিলের বাসা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত মাসে বাসা ছেড়ে দেওয়ার সময় খুশি বেগমের কাছে বাসা ভাড়া দাবি করেন রনি। তিন হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেন খুশি। বাকি এক হাজার টাকার পরিবর্তে খুশি বেগমের টিভি রেখে দেন রনি। টাকা দিয়ে টিভি নেওয়ার কথা জানায় খুশিকে।
গত মঙ্গলবার খুশি বেগম রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভাড়ার অবশিষ্ট টাকা দাবি করেন রনি। টাকা দিতে না পারায় রনি, তার ভাই রুবেল, বোন চাদনী, রনির স্ত্রী শিউলী তাকে চুল ধরে টেনে ছেছড়ে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। কক্ষের দরজা বন্ধ করে খুশি বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পেটানো হয়।
এসময় খুশি বেগমের কাছে থাকা দুই হাজার টাকা ও দুটি কানের দুল খুলে নেন রনির পরিবারের সদস্যরা। পরে খুশি বেগম কাঁদতে কাঁদতে থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার সনদ আনতে পাঠায়। হাসপাতাল থেকে খুশি বেগম সনদ আনার সময় তার হাতে থাকা সনদ ছিনিয়ে নেয় রনিসহ ৭/৮ জন লোক। তারপরও কৌশলে হাসপাতালের নার্সের সহযোগিতায় কিছু ঔষধ লিখে নিয়ে চলে আসেন।
পরে বুধবার টাঙ্গাইল মডেল থানায় তিনি একটি অভিযোগ দায়ের করেন।








