জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও ভারতের লালু প্রসাদ যাদবের জামিন আবেদন প্রসঙ্গ এসেছিল।
খালেদার জামিন আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘এটা দেশের ইতিহাসে প্রথম কোন মামলা যেখানে এতিমের টাকা খোয়া গেছে। সরকারপ্রধান হিসেবে এর দায়িত্ব কোনভাবেই তিনি এড়াতে পারেন না।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এর আগের হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে পাচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তিনি সাড়ে তিন বছর পরে জামিন পেয়েছিলেন। সুতরাং আরেকজন সাবেক সরকারপ্রধান কেন এই দু মাসের মাথায়ই জামিন পাবেন? ’
এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, ‘ভারতে অতি সম্প্রতি (বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান) লালু প্রসাদ যাদবের জামিন আবেদন ঝাড়খন্ড হাইকোর্ট নাকচ করেছে। তার সাজা ছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর।’
এসময় আদালত বলেন, মিস্টার অ্যাটর্নি জেনারেল। এগুলো দেখে আমরা কি করব? এগুলো এক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে না। কে কূল গাছ লাগিয়ে আসলো আর কে সেই কূল খেল এগুলো টকশ’র বিষয়।’
এরপর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের উপর শুনানি শেষ হলে, বিচারিক আদালতের নথি আসার পর খালেদার জামিন বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলে জানান হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেন।
এইদিন আদালতে খালেদার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের এই বেঞ্চে খালেদার জামিন আবেদন করা হলে আদালত জামিন শুনানির জন্য রোববার দুপুর ২টা সময় নির্ধারণ করে দেন।
সেই সঙ্গে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার করা আপিল এইদিন শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই মামলায় খালেদাকে বিচারিক আদালতের করা জরিমানা স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠাতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একইদিন বিকালে সে আপিল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হলে আদালত খালেদার আপিল গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের ১১ দিন পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা সত্যায়িত অনুলিপি পান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। আর তার ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই সাথে খালেদা তারেকসহ সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়।
বিচারিক আদালতের এই রায়ের পর আদালত থেকেই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। এখন তিনি সেখানেই আছেন।








