শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড আটকের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিকদের ও দ্য হোটেল রেইনট্রি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মদ রাখার দায়ে শুল্ক গোয়েন্দা সদরদপ্তরে তলব করা হয়েছে।
আগামী ১৭ তারিখ বুধবার বেলা ১১ টায় তাদের শুল্ক গোয়েন্দার কাকরাইলের সদর দপ্তরে কাগজপত্রসহ হাজির হতে বলা হয়েছে।
রোববার শুল্ক গোয়েন্দার দল আপন জুয়েলার্সের গুলশান, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কোয়ারের শাখায় অভিযান চালিয়ে ২৮৬ কেজি স্বর্ণ ও ৬১ গ্রাম ডায়মন্ড ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ রাখার দায়ে সাময়িক আটক করে। এগুলো আইন অনুসারে সিলগালা করে তাদের হেফাজতে দেয়া হয়।
গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারে অন্য আরেকটি শাখা বন্ধ পাওয়ায় সবার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করার নিমিত্ত সিলগালা করা হয়েছে। উক্ত তলবে সাময়িকভাবে আটক এই মূল্যবান সামগ্রী সরবরাহের বৈধতা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এছাড়া দ্য রেইনট্রি হোটেলে শুল্ক গোয়েন্দার দল ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে। এই মদ উদ্ধারের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ বারের লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। অবৈধভাবে বিদেশি মদ রাখার দায়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও শাফাত আহমেদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বন্ধুর মাধ্যমে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। এরপর ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে ধর্ষকরা।
যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, তাদের একজন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ।
প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি উপেক্ষা করে ঘটনার একমাসের বেশি দিন পর ওই দুই তরুণী ৪ মে বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে যান।
তবে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদেরকে হয়রানী করে বলে অভিযোগ ওঠার ৪৮ ঘণ্টা পর ৬ মে ওই অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে।
গত ১১ মে সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দিন আদালতে তোলা হলে আদালত সাফাতকে ৬ দিন এবং সাদমান সাকিফকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।








