এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট এবং বন্যার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘জিরো ওয়েস্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ: অ্যাডভান্সিং সাসটেইনেবল অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)। আয়োজনে সহযোগিতা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা শূন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব এবং টেকসই ও সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন) মো. জিয়াউল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্জ্য উৎপাদন কমানো, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বর্জ্য খাত থেকে মিথেন গ্যাসের নির্গমন কমানো বাংলাদেশের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ইএসডিওর প্লাস্টিকস অ্যান্ড জিরো ওয়েস্ট প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান নওশীন নায়লা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ, অপরিকল্পিত জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মিথেন নির্গমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ইএসডিওর কমিউনিটিভিত্তিক কম্পোস্টিং, বায়োগ্যাস ব্যবস্থা, সার্কুলার ইকোনমি, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ এবং নীতিগত প্রচারণার বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, বর্জ্যকে শুধু ফেলে দেওয়ার উপকরণ হিসেবে না দেখে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।
প্রযুক্তিগত উপস্থাপনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার রাজধানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ডিএসসিসির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ মহানগরে ‘জিরো ওয়েস্ট’ নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করেন।
সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বর্জ্য খাত থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো, উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা জোরদার, স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় জলবায়ু ও উন্নয়ন কৌশলে ‘জিরো ওয়েস্ট’ ধারণা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এতে সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন আর শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়; এটি বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ লক্ষ্য অর্জনে নীতিনির্ধারক, স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইএসডিওর সহকারী কর্মসূচি কর্মকর্তা সাদমীন সাদাফ জাহান। তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজন সফল করতে সহযোগিতার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, বক্তা, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যমকর্মী এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
আয়োজকরা জানান, এই জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে ইএসডিও প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, কমিউনিটিভিত্তিক ‘জিরো ওয়েস্ট’ উদ্যোগ এবং বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্ব জোরদারের মাধ্যমে দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে একটি টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।







