চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channeliadds-30.01.24Nagod

ককটেল ফাটাতে বাধা দেয়ায় বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা

নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চল নীলক্ষায় ককটেল ফাটাতে বাধা দেয়ায় জুলহাস মিয়া (২৮) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ৪ জন। শনিবার (২২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নীলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. জুলহাস মিয়া একজন পোল্ট্রি ব্যবসায়ী। তিনি নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের শামসুল মিয়ার ছেলে। এই ঘটনায় আহত ৪জন হলেন- সাদ্দাম মিয়া (৩২), ইয়ামিন মিয়া (১৮), হাবিব মিয়া (১৬) ও রাইজুদ্দীন মিয়া (২৬)। হতাহত সবাই একই বাড়ির সদস্য।

স্থানীয় ও নিহতের স্বজনরা জানান, জালাল মিয়া নামের একজন স্থানীয় একটি পক্ষের সন্ত্রাসী এবং ককটেলের মত নানা ধরনের বিস্ফোরক তৈরিতে ওস্তাদ হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রায়ই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। শনিবার ঈদের দিন বিকেল ৫টার দিকে তার নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন মিলে এলাকায় ককটেল ফাটাচ্ছিল। ঘটনাস্থলের পাশেই মো. জুলহাস মিয়ার পোল্টি ফার্মে তিনিসহ প্রায় ২০ জন আড্ডা দিচ্ছিলো।

তিনি এগিয়ে গিয়ে জালাল মিয়াকে অনুরোধ করে বলেন, মুরগিগুলো ভয় পায়, এখানে আর ককটেল না ফাটাতে। এ সময় দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে জালাল মিয়াসহ তার সঙ্গের লোকজন চলে যান। পরে আধা ঘন্টা পর সাড়ে ৫টার দিকে তারা বেশকিছু টেঁটা, পাইপগান ও শর্টগান নিয়ে জুলহাসদের দিকে এগিয়ে আসেন। এই দৃশ্য দেখতে পেয়ে জুলহাসসহ সঙ্গে থাকা সবাই তাদের বাড়িতে ঢুকে যান। পরে জালাল মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন বাড়িতে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকেন। এতে মোট ৫জন গুলিবিদ্ধ হন।

Reneta April 2023

পরে জালাল মিয়ারা চলে গেলে গুলিবিদ্ধ জুলহাস, হাবিব ও ইয়ামিনকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বজনরা। সেখানে জুলহাস মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। গুলিবিদ্ধ আরো ২জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া অন্য ২জনকে নরসিংদী শহরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

১০০ শয্যা বিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, জুলহাস নামের এক যুবককে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছে। এছাড়া আহত আরও ২জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের শরীরেই গুলিবিদ্ধের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

রায়পুরা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও কয়েকজন আহতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।