অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেলিফোন করেছেন। এসময় উভয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিষয়ে কথা হয়েছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি বলা হয়েছে।
রোববার (১৮ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের বিশেষ বুলেটিন ৩৬৫ দিন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার কথা জানান।
তিনি লিখেছেন, আজ প্রধান উপদেষ্টার টেলিফোন পেলাম। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণতান্ত্রিক, স্থির, শান্তিপূর্ণ এবং প্রগতিশীল বাংলাদেশকে ভারত ক্রমাগত সাহায্য করে যাবে।
পরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনতার কল্যাণে সবসময় থাকবে। আরও বলা হয়, উভয় দেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও কথা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে জানতে চাওয়া হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবে কিনা। জবাবে মুখপাত্র বলেন, এটা কাল্পনিক প্রশ্ন।
পরে জানতে চাওয়া হয়, কতদিন উনি থাকবেন ভারতে? জবাবে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রী সংসদে বলেছেন, স্বল্প সময়ের নোটিশে তিনি ভারতে এসেছেন।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব কিছুই সাভাবিক হবে। তখন ভিসা দেওয়া নিয়মিত হবে। এখন কেবলমাত্র সীমিত মেডিকেল ভিসা জরুরি প্রয়োজনে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতীয় হাই-কমিশনার পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে দেখা করেন। এসময় তিনি ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে জানান। আশা করি বাংলাদেশ উচিত ব্যবস্থা নেবে। এখন পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল।
এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন ভারত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সযোগিতা করবে।
বাংলাদেশ সরকারের তরফে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রসঙ্গে জানানো হয়, শুক্রবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টেলিফোনে কথা হয়। এসময় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোদি। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
এসময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে সরকার এবং প্রশাসন সর্বদা সতর্ক বলে জানিয়েছেন ইউনূস। সংবাদমাধ্যমে ভুয়া এবং অতিরঞ্জিত খবর যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিশেষত সংখালঘুরা যে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত তা দেখতে ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ঘুরে দেখারও পরামর্শ দেন ড. ইউনুস।








