বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে রাজধানী ঢাকায় ২৮ এপ্রিল শুরু হয়েছে ৪ মাসব্যাপী পোস্টপ্রো ট্যালেন্টল্যাব নামের চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ক কর্মশালা। দেশে সিনেমা নির্মাণে জড়িত শব্দ রঙ প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন কারিগরি পযার্য়ের কলাকুশলীদের নিয়ে করা হচ্ছে এই আয়োজন।
এই কর্মশালায় দেশের নবীন ও তরুণ সিনেমা কলাকুশলীরা পোস্ট প্রোডাকশন ও সিনেমা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। কয়েক’শ আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত কলাকুশলীরা অংশ নিচ্ছেন এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্পাদনা ও পোস্ট প্রোডাকশন সুপারভিশনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন স্টিভ এম চৌ, শব্দকৌশল নিয়ে হান মিউয়াং-হুয়ান ও কালার গ্রেডিং নিয়ে সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ও প্রযোজক ছাই ইয়ে উই কর্মশালা পরিচালনা করছেন। প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারীরা নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্ল্যাসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রকৌশলী হিসেবে যুক্ত।
সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ও প্রযোজক ছাই ইয়ে উই বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের সিনেমা তৈরির আগ্রহ অনেক। এ ধরনের কর্মশালা নবীনদের অনেক অনুপ্রেরণা দেয়। বাংলাদেশের তরুণেরা অনেক পরিশ্রমী। বিশ্বের সিনেমা শিল্পে বাংলাদেশের শিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ আছে। সেই সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন দক্ষতা ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে সিনেমা তৈরির কারিগরি দিক। সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে এই কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে।”
গেল সোমবার ঢাকার বিশ্বব্যাংক অফিসে এই কর্মশালা উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কর্মকর্তা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রকৌশলী, লেখক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ বলেন, “সারা বিশ্বে এখন গ্রিন ইকোনমির ধারণা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। গ্রিন ইকোনমির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থা ও নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে পোস্ট-প্রোডাকশন খাত চলচ্চিত্র ও কনটেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এইখাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ।“
সাম্প্রতিক ওটিটি প্লাটফর্মের উত্থান ডিজিটাল মিডিয়া নির্ভর অর্থনীতির উত্থান ও আধুনিক সিনেমা হল এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মাল্টিপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা নতুনমাত্রায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুযোগ তৈরি করছে। এই শিল্পখাতে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মেধা ও তরুণদের অংশগ্রহণের বহুমাত্রিক সুযোগ আছে। বহু বিলিয়ন ডলারের শিল্পখাতে বাংলাদেশের সুযোগ ও সম্ভাবনা বাড়াতে এই কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা তাত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে।
কর্মশালার ভিন্নতা ও অভিনবত্ব নিয়ে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত বলেন, “আমাদের দেশের সিনেমার ইতিহাস অনেক পুরোনো। এখন সিনেমা দুনিয়াতে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক পরিবর্তন আসছে। আসছে প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকছে পোস্টপ্রো ট্যালেন্ট ল্যাব ২০২৪ কর্মশালায়। নেটফ্লিক্স, ডিজনিপ্ল্যাসসহ আন্তর্জাতিক সিনেমা বাজারের অভিজ্ঞতা আছে প্রশিক্ষকেরা এই কর্মশালা পরিচালনা করছেন। দেশে এমন আয়োজন প্রথমবারের মতো হচ্ছে বলে আমরা ভীষণ উৎসাহিত নবীন কলাকৌশলীদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরির জন্য।“
কর্মশালার জন্য দেশের প্রায় ২৩ জন তরুণ কলাকৌশলী নির্বাচিত হয়েছেন। কর্মশালায় নির্বাচিত নির্মাতা ও সম্পাদক মারজানা সাফাত বলেন, “আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ কম। আমি দেশে বসে বাইরের অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করছি। এই প্রশিক্ষণের সুযোগ আমাদের এশিয়ার চলচ্চিত্র বাজার ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ তৈরি করবে বলে আমি আশা করছি”।
কর্মশালায় অংশ নেয়া রয় চিন্ময় জানান, “আমাদের দেশে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ কম। বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে এমন সুযোগে আমাদের দেশের পেশাজীবীদের সরাসরি পেশাদার প্রকৌশলীদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।“
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের দিনব্যাপী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে সিনেমার সম্পাদনার জন্য স্টুডিও ও শুটিং ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ পাবে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশের স্পেল বাউন্ড-লিও বার্নেট।








