২০১৪ সালের পর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আশা জাগালেও জয়েরবন্দরে নোঙর করা সম্ভব হয়নি এবার। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেখতে হয়েছে বড় ব্যবধানে হার। তবে সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে জয়ে রাঙিয়ে আসর শেষের সুযোগ দেখছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় স্বাগতিক প্রোটিয়া মেয়েদের বিপক্ষে এবারের আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে নামবে টিম টাইগ্রেস। খেলা কেপটাউনে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কের দিকে প্রশ্ন যায়, দেশ ছাড়ার আগে আপনারা বলেছিলেন অন্তত একটি জয় নিয়ে ফিরতে চান। জ্যোতির উত্তর ছিল, ‘পারলাম না, এখনও কিন্তু সুযোগ শেষ হয়নি! শেষ একটা ম্যাচ যেহেতু হাতে আছে।’
‘দল ভালো করতে পারেনি, সেটা আমরা জানি। দল হিসেবে পারফর্ম করতে পারিনি বলেই দল ভালো করতে পারেনি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দুই-একটা থাকলেও কিন্তু ভালো হয়নি। কারণ দল হিসেবে পারফর্ম করতে না পারলে একটু কঠিন হয়ে যায় ম্যাচ জেতা। কিছু ছোট ছোট ভুলের মূল্য আমাদের দিতে হয়েছে। যেহেতু আরেকটি ম্যাচ আছে, আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে যেন আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’
ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে সাউথ আফ্রিকা। পরে নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারালেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে স্বাগতিক দল। কাগজে-কলমে প্রোটিয়াদের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা টিকে রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে। প্রতিপক্ষের চাপে থাকার এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চান লাল-সবুজের দলের অধিনায়ক।
‘আমার কাছে মনে হয়, সাউথ আফ্রিকা একটু চাপে আছে। আমরা ওভাবে চাপে নেই। চাপহীন ক্রিকেট যদি আমরা খেলতে পারি, এই ম্যাচটি ভালো খেলতে পারব।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে না পারার আক্ষেপ এদিন আরেকবার ঝরেছে জ্যোতির কণ্ঠে। বোলিংয়ের শুরুটা ভালো হলেও পরের দিকে তা ধরে রাখতে না পারা আর বাজে ফিল্ডিংয়ের কথা অকপটে স্বীকার করলেন।
‘প্রতিটি দলই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চেষ্টায় থাকে যেন সেমিফাইনালে যায়। আমাদেরও সুযোগ ছিল, যদি আমরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো খেলতে পারতাম। তাদের বিপক্ষে আমাদের জয়ের একটি সুযোগও এসেছিল। কিন্তু কোনোভাবে আমরা দ্বিতীয়ভাগে ভালো বোলিং করতে পারিনি, ভালো ফিল্ডিং করতে পারিনি। তাই ম্যাচটি আমাদের হাত থেকে চলে গেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারলেও টাইগ্রেস বোলাররা ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। আগে ব্যাট করে পুরো ২০ ওভার খেলে অবশ্য বোর্ডে ১০৭ রানের বেশি ওঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। অধিনায়ক বললেন, ‘দ্বিতীয় ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, কঠিন ছিল আমাদের জন্য। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা ভালো করতে পারিনি, তবে বোলিং অনেক ভালো হয়েছে।’
‘সবমিলিয়ে আমাদের দল হিসেবে পারফরম্যান্সে ঘাটতি থেকে গেছে। এসব উইকেটে ১৩০-১৪০ রানের বেশি না করলে কঠিন হয়ে যায় ম্যাচ বের করা। তবে সবাই এরকম টুর্নামেন্ট যখন খেলতে আসে, বড় চিন্তা করেই আসে যেন সেমিফাইনাল খেলতে পারি। আমাদের সেটা হয়নি। ইচ্ছা থাকবে শেষ ম্যাচে ভালো কিছু যেন পেতে পারি। একটি জয় নিয়ে ফেরার ইচ্ছা আছে।’
সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনেকে জাতীয় দলে লম্বা সময় ধরে খেললেও আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সেখানে বয়সভিত্তিক দল থেকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে এসে সম্ভাবনার আলো ছড়িয়েছেন স্বর্ণা আক্তার। তার মতো আরও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার দলে সুযোগ পাওয়া উচিৎ কিনা, সেই প্রশ্নও গেল জ্যোতির দিকে।
‘দেখেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভালো করার জন্যই স্বর্ণাকে দলে নেয়া হয়েছে। আমরা কোনো চাপ দিইনি তাকে, প্রথম দুটি ম্যাচ একটু মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে। সেটা স্বাভাবিক। সে তরুণ হলেও পরিণত বলেই খেলছে। তাকে চাপমুক্ত ক্রিকেট খেলার সুযোগ আমরা যেটা দিয়েছি, সেজন্য তৃতীয় ম্যাচে এসে খুব ভালো পারফর্ম করেছে।’
‘আমরা নতুন মুখ দলের যুক্ত হতে দেখছি। আগেও যুক্ত হয়েছে। সবাই যে নতুন এসে দলের জন্য ভালো খেলেছে তাও কিন্তু না। দুই-একজন আমরা পাচ্ছি। সিনিয়ররা হয়তো এবার সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। আগে কিন্তু দুই-একজন সিনিয়র ভালো করেছে বলেই ম্যাচের দৃশ্যে পরিবর্তন হয়েছে। একটা টুর্নামেন্টের ভিত্তিতে কাউকে যাচাই করা ঠিক হবে না।’








