নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য কারা আলোচনায়, ট্রাম্প কোথায়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তাঁর পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ট্রাম্পকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য তাঁর সমর্থকদের ধারাবাহিক প্রচারণার মধ্যেই মাচাদোকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। পরে মাচাদো তার পাওয়া নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে দেন।
এবারের পুরস্কার ঘোষণার আগে নোবেল কমিটি গত বছরের ঘটনা বিবেচনায় রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ট্রাম্পকে ঘিরে গত বছরের বিতর্কের কারণে এমন কাউকে পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে, যিনি ট্রাম্পের সম্ভাব্য চাপ সামলাতে পারবেন।
অসলোভিত্তিক পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলোয় রয়টার্সকে বলেন, গত বছরের ঘটনা কমিটির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তিকে পুরস্কার দেওয়ার ফলে তিনি ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়বেন কি না, সেটিও কমিটি বিবেচনা করতে পারে।
কারা আলোচনায়?
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা হওয়ার কথা ৯ অক্টোবর।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম পোপ লিও যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান, অভিবাসীদের অধিকার এবং মানবিক কার্যক্রমে জোর দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সমালোচনা করায় ট্রাম্প তাঁকে ‘দুর্বল’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক করিম হাগাগ বলেন, পোপ লিও শুধু ধর্মীয় নেতা নন; তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবেও উঠে এসেছেন।
অন্যদিকে, ফ্রান্সেসকা আলবানিজ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও পশ্চিম তীর দখলের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
‘নিরাপদ’ প্রার্থীও হতে পারেন
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, গত বছরের বিতর্কের পর কমিটি এবার তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত কাউকে পুরস্কার দিতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সুদানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ নামের স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক বা যুদ্ধকবলিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন আলোচনায় আসতে পারে।
তবে ইতিহাসবিদ ও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে গবেষণাকারী ওইভিন্ড স্টেনারসেন মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও উদার গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার চাপও কমিটির ওপর রয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকেও পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।
ট্রাম্পের সম্ভাবনা কতটা?
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাকন গেরলোয়ের মতে, ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা ‘বেশ কম’।
নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গত বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মাচাদোও। ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক এবং নোবেলজয়ী মারিয়া রেসা বলেন, গত বছরের ঘটনাগুলো তিনি ‘আতঙ্কের সঙ্গে’ দেখেছেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে।





