নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুরে প্রস্তাবিত একটি মশার কয়েল কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র পুনরায় দেওয়ার উদ্যোগের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নয়বার তদন্তে এলাকাটি আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও কীভাবে আবার ছাড়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় নয়াপুর গ্রামের মসজিদের পক্ষ থেকে মো. মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধন সাহা এবং এলাকাবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কবি ও পরিবেশকর্মী শাহেদ কায়েস উপস্থিত ছিলেন।
শাহনাজ মুন্নী বলেন, সোনারগাঁয়ের নয়াপুর গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়, যেখানে মসজিদ, মন্দির ও একটি মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে, সেখানে ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ নামে একটি মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, কারখানাটি চালু হলে বিষাক্ত দূষণের কারণে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হবে।
তিনি জানান, এলাকাবাসীর আবেদনের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান ও শাখা কার্যালয় থেকে মোট নয়বার তদন্ত পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি তদন্তেই এলাকাটিকে আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে আইন অনুযায়ী মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের অনুপযোগী বলে মত দেওয়া হয়। পরে পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানাটির অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করে।
তবে শাহনাজ মুন্নীর অভিযোগ, আপিলের মাধ্যমে একবার ছাড়পত্র পাওয়ার পর সেটিও পরবর্তী তদন্তে বাতিল করা হয়। এখন আগামী ৬ আগস্ট আপিল কর্তৃপক্ষের শুনানির মাধ্যমে আবারও ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি প্রশ্ন করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নয়বার তদন্ত ও দীর্ঘ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত মাত্র ১৫ মিনিটের শুনানিতে কীভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব?
তার অভিযোগ, আপিল ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহল পরিবেশগত ছাড়পত্র আদায় করছে। তিনি আরও দাবি করেন, একই এলাকায় এর আগে ‘ইমাম পোলট্রি ফার্ম’ পরিবেশ আইনের আওতায় বন্ধ করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে আরও বেশি দূষণকারী একটি মশার কয়েল কারখানার অনুমোদনের উদ্যোগ উচ্চ আদালতের আগের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ মুন্নী প্রস্তাবিত কারখানাটিকে পুনরায় পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতের মাধ্যমে আপিল নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর ছাড়পত্রের আবেদন না মঞ্জুর করার দাবি জানান।







