বুধবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে দুষ্কৃতিকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন বলিউড তারকা অভিনেতা সাইফ আলী খান। রাতেই বড়ছেলে ইব্রাহিম রক্তাক্ত বাবাকে নিয়ে ছুটেন হাসপাতালে।
মুম্বাইয়ের লীলাবতি হাসপাতালে বর্তমানে সফল অস্ত্রোপচারের পর অভিনেতাকে রাখা হয়েছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ)। এরআগেই সাইফের চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়।
অভিনেতার শারীরিক অবস্থা জানতে ইতিমধ্যে সকাল থেকেই হাসপাতালসহ আশপাশে ভিড় জমিয়েছেন সংবাদকর্মী থেকে সাধারণ ভক্ত অনুরাগীরা। চিকিৎসকের তরফে ‘আউট অব ডেঞ্জার’ বলায় সবাই আপাতত হাফ ছাড়লেও অভিনেতার দুটি আঘাতকে এখনো গুরুতরই বলছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।
এদিকে সাইফ আলীর উপর এমন আক্রমণ নিয়ে সারা ভারতে হইচই। রাজনৈতিক রং দেয়ারও চেষ্টা করছে বিভিন্ন দলগুলো। তবে সব আলোচনা সমালোচনা মাড়িয়ে যে প্রশ্নটি বার বার ফিরে আসছে, সেটি হলো- এতো নিরাপত্তার বেড়াজাল টপকে কীভাবে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ল দুষ্কৃতীকারীরা?
বিষয় জানতেই বুধবার মধ্যরাতেই সাইফের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সাইফের উপর হামলার দুই ঘণ্টা আগের ফুটেজ থেকে দেখে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জানায়, বাড়ির বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়নি। তবে কি বাড়ির ভেতর থেকেই কেউ এমন হামলা চালিয়েছে? এমন প্রশ্ন উঠা অমূলক নয়।
তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুম্বাই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার দীক্ষিত সংবাদ মাধ্যমে জানান, এক দুষ্কৃতীকারীকে চিহ্নিত করা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওই আবাসনের সিঁড়িতে দেখা যায়। চুরির উদ্দেশ্যেই সে ঢুকেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এখনও ওই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
বুধবার মধ্য রাতে সাইফের বাড়িতে ঢুকে আক্রমণ চালালেও দুষ্কৃতীকারী সন্ধ্যা রাতের দিকে প্রবেশ করে বান্দ্রার ওই আবাসনে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এমনটাই নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, বুধবার রাতে নয়, বরং হামলার বহুক্ষণ আগেই দুষ্কৃতীকারী ঢুকে পড়েছিল বান্দ্রা এলাকার ওই অভিজাত আবাসনে। সন্দেহ করা হয়েছিল, কোনও পরিচারিকাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন সাইফ। সেই গৃহপরিচারিকার নামও প্রকাশ্যে আনল মুম্বাই পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের পর বান্দ্রা থানার পুলিশ জানিয়েছে, সাইফ-কারিনার বাড়ির সহায়িকা ইলিয়ামা ফিলিপ আলিয়াস লিমা বুধবার রাত ২টা নাগাদ প্রথমবার ওই দুষ্কৃতীকারীকে দেখতে পান। তখনই তিনি চিৎকার করেন, নিজেকে বাঁচাতে সকলকে সচেতন করার চেষ্টা করেন বলে দাবি। সে সময় ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন সাইফ। দুষ্কৃতীকারীর সঙ্গে তার হাতাহাতিও হয়। তখনই সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় অভিনেতার উপর।
পুলিশের দাবি, সাইফকে কয়েক বার কোপায় দুষ্কৃতীকারী। তার পর সে পালিয়ে যায়। খান পরিবারের তরফে তখনই পুলিশকে খবর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সাইফের শরীরের ছ’টি আঘাত ছিল। তার মধ্য দু’টি গভীর। গৃহপরিচারিকা লিমাও আক্রান্ত হন। তার ডান হাতের কব্জিতে আঘাত লাগে। আপাতত, লিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকেরা। জানা গেছে, লিমাকেই প্রথম আক্রমণ করেছিল দুষ্কৃতীকারী।
এদিকে সাইফের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাইফের শরীর থেকে প্রায় ২-৩ ইঞ্চির একটি ধারালো বস্তু বের করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এটা ছুরিরই ভাঙা অংশ। লীলাবতী হাসপাতালের তরফ থেকে আগেই জানানো হয়, অভিনেতার শরীরে ৬টি ক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি ক্ষত গভীর বলে জানানো হয়। সাইফ তার শিরদাঁড়ার কাছেও আঘাত পেয়েছেন।








