তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হাড় কাঁপানো শীতের সাথে বেড়েছে কুয়াশার দাপট আর হিমেল বাতাস। আজ শনিবার ৯.৫ ডিগ্রি নিয়ে সিলেটের শ্রীমঙ্গল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে।
গত কয়েকদিনের হাড় কাপানো শীতে বিপর্যস্ত নগরসহ সারাদেশের মানুষ। অনেকেই আলোচনা করছেন এটাই কি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা! তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন দিক।
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলছেন, এবছর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল জানুয়ারির ৩ তারিখে তেতুলিয়ায়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন তালিকায় সংযুক্ত হওয়ার মতো নয়।
এবছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার এই অঞ্চলটিতেই দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সবচেয়ে উত্তরে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়াতে ৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে। তেতুলিয়াতে সেদিন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সেই দিন দেশের দু’টি স্থানে তাপমাত্রা তিন ডিগ্রির নীচে নেমেছিল। তেতুলিয়া ছাড়া অপরটি হলো সৈয়দপুরে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি। এর আগে সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে। আর সেটি ছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নানের বক্তব্য দিয়ে ৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে বিবিসি বাংলা প্রতিবেদনে প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, ‘হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা শীতল বাতাসের কারণে দেশজুড়ে বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত অঞ্চলজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এছাড়া মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে দেশের মধ্যাঞ্চলে অর্থাৎ ঢাকা, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলে।’
তখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছিল খুলনার দক্ষিণ পশ্চিম থেকে শুরু করে বরিশাল, পটুয়াখালী, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি এলাকায়। চট্টগ্রাম অঞ্চল বাদ দিয়ে পুরো দেশই মূলত তখন শৈত্যপ্রবাহের কবলে ছিল।
তখন সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল কক্সবাজারে। আর ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও চলতি বছরে একাধিক সময় ঢাকার তাপমাত্রা ৯ দশমিকের আশপাশে রেকর্ড হয়েছে।







