ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের খবর দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকে আলোচনায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে?
মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখানে থাকবে। প্রোক্টরিয়াল বডি এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সমন্বয়ে প্রথম স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’
‘ভোটারদের উপস্থিতি নির্বিঘ্ন ও ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে বিএনসিসি ২০০ সদস্য ৮টি কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবে। এরসঙ্গে আমাদের প্রোক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। এর বাইরে যদি আরও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন হয় তাও করা হবে।’
নিরাপত্তার দ্বিতীয় স্তরের ‘পুলিশ’ ভোট কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করে নিরাপত্তা নিশ্চিত বলে জানান অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি প্রবেশ পথে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।
যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হবে সেনাবাহিনী।
ভোট গ্রহণ শেষের সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলো ‘কর্ডন’ করবে সেনাবাহিনী।
ভোটের দিন পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ‘সিলগালা’ থাকবে।
বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে ক্যাম্পাসে অভিযান চলবে।
ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকবে।
তৃতীয় ও সর্বশেষ স্তরের নিরাপত্তায় যুক্ত থাকবে সেনাবাহিনী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তৃতীয় স্তরে আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে আর্মি উপস্থিতি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি মূল এন্ট্রি পয়েন্ট যেমন- পলাশী, নীলক্ষেত, শাহবাগের মত সাতটি পয়েন্টে আর্মি অবস্থান নেবে। তবে আর্মি থাকবে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে।’
যেকোন প্রয়োজনে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী উপস্থিত হবে পারে এমন নির্দেশনার কথা তুলে ধরে এ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের ডিমান্ড অনুযায়ি, আর্মি যেকোন সময় যেন পাঁচ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করবো। সারাদিন তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন, প্রয়োজন অনুযায়ী আসবেন।’
ভোট গ্রহণ শেষ হবার পরই সেনাবাহিনী ভোট কেন্দ্রগুলো ঘেরাও করে রাখবে। ৮টি কেন্দ্র থেকে স্ব-স্ব কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এসব তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ভোট দান সম্পন্ন হওয়ার পরে ভোট কেন্দ্রগুলো আর্মি দ্বারা কর্ডন (ঘেরাও) করা হবে। ডাকসু এবং হল সংসদ ভোটের রেজাল্ট আমরা গণনা শেষে ৮টি কেন্দ্রেই থেকেই দিয়ে দেব। ভোটের রেজাল্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত আর্মি কর্ডন করে রাখবে।’
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার সময় ‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি’ ছাড়া কেউ গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বহিরাগতদের হলে অবস্থান প্রসঙ্গও আসে মতবিনিময় সভায়। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, ‘৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন এর সাত দিন আগ থেকেই হল গুলোতে কোন বহিরাগত অবস্থান করতে পারবে না। এটি আমরা হল রিটার্নিং অফিসার, হাউজ টিউটর এবং প্রোভস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করবো।’
বহিরাগতদের অবৈধ অবস্থান রোধ করতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা হলগুলোতে ‘বিনা নোটিশে’ উপস্থিত হয়ে তদারকি করবে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের আচরণবিধি খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়া বহিরাগত ঠেকাতে ৮ সেপ্টেম্বর বিকাল থেকে ভোটের দিন ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সিলগালা রাখার সিদ্ধান্ত জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন ৯ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সিলগালা থাকবে। এর অর্থ হচ্ছে আমাদের বৈধ ভোটার যারা আছেন, যাদের আইডি কার্ড আছে, তারাই শুধু ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে যাদের কার্ড দেওয়া হবে তারাই শুধু প্রবেশ করতে পারবে। ওই দিন কোন ভাবেই কার্ডধারী ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ছাড়াও অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা, অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা, অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর, সহযোগী অধ্যাপক শারমীন কবীরসহ হলগুলোর অন্যান্য রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।







