ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার হুমকির কারণে তুরস্কের আঙ্কারা থেকে গোপনে খাবারের গাড়িতে লুকিয়ে বিমান পরিবর্তনের ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বুধবার (১২ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয় জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করেছি। তারা আমাকে অন্য একটি বিমানে যেতে বলেছিল, তাই আমি তাই করেছি। নিরাপত্তার দিক থেকে নতুন বিমানটিও বেশ নিরাপদ ছিল।
ইরানের হুমকির ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাননি। কারণ, তিনি নিয়মিতই বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়ে থাকেন। নিজেকে একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট’ উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, ছয় বছরের শাসনামলে অসাধারণ কাজ করার কারণে তার বিরুদ্ধে হুমকিও বেশি। তবে এসব হুমকি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান ট্রাম্প। ‘যা হওয়ার হবে’ এটাই তার মনোভাব।
ইরানের সঙ্গে বর্তমান উত্তেজনা নিয়েও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ইরানকে তিনি বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করেন না, কারণ দেশটি বারবার মিথ্যা বলেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। ইরান কোনো পদক্ষেপ নিলে তার কঠোর প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা ইরান এখন আগের মতো শক্তি প্রদর্শনের অবস্থানে নেই বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারা বিমানবন্দরে ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প। তবে কিছুক্ষণ পর তাকে গোপনে বিমানবন্দরের একটি খাবারের গাড়িতে লুকিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়ার পরই এই গোপন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।








