অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে সংসদকে যা জানালেন ভূমিমন্ত্রী

সংসদে ভূমিমন্ত্রী অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, সংসদ অধিবেশনে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
সারাদেশে অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করা চার লাখের বেশি ভুক্তভোগীর মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।
বৃহস্পতিবার সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পংকজ নাথের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ‘ক’ তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মোট এক লাখ ১৪ হাজার ৩১০টি মামলা দায়ের করা হয়। এতে ৩৩ হাজার ৮৯২টি মামলার রায় হয়েছে। তারমধ্যে ১৪ হাজার ৭১৪টি মামলায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে রায় হয়েছে। এতে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১২ হাজার ১১৫ দশমিক ৯১ একর।
মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র আরও বলেন, বাতিল করা ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে চার লাখ ১৫ হাজার ৩৯৮টি নামজারির আবেদন দাখিল করা হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে এ পর্যন্ত তিন লাখ ৮৯ হাজার ৮১৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তি করা আবেদনের বিপরীতে ভুক্তভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা জমির পরিমাণ দুই লাখ ৫৩ হাজার ২০৭ দশমিক শূন্য সাত একর।
এদিকে সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি ভূমি অফিসসমূহের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দূরীকরণের জন্য বিনা হয়রানি ও দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।
তিনি বলেন, ভূমি অফিসসমূহের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দূরীকরণের জন্য বিনা হয়রানি ও দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভূমিসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভূমি সংক্রান্ত সেবাসমূহ ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৮ বিভাগের ১৬টি জেলার ৩২টি উপজেলায় ও ৬৪ ইউনিয়ন ভূমি অফিস কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ই-পর্চা, কেস ম্যানেজমেন্ট সিন্টেম, অনলাইনে জলমহাল ইজারা, ডাকযোগে খতিয়ান, পর্চা ও ম্যাপ দ্রুত সময়ে প্রদান করা হচ্ছে। তাই নাগরিক ঘরে বসে ১৬১২২ নম্বরে কল করে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে কাঙ্খিত ভূমিসেবা পাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলায় জনসচেতনতার লক্ষ্যে সিটিজেন চার্টার স্থাপন করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের এবং বিভিন্ন সময়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপজেলা ভূমি অফিস-রাজস্ব সার্কেল অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির পরামর্শ দেয়া হয়।
উপজেলা পর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়মিত নিবিড়ভাবে ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসক সপ্তাহে একদিন গণশুনানিকালে ভূমি অফিসসমূহের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম জানতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।




