চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে বসতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরপরই জরুরি অবস্থা ও সরকারের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
খুনি সরকারের কাছে বিচার চাওয়া বা সংলাপে বসারও সুযোগ আর নেই। ক্ষমা চাওয়ার সময়ও পার হয়ে গেছে। – মো. নাহিদ ইসলাম
আজ (৩ আগস্ট) শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ওই পোস্টে মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘১৯ জুলাই আমরা কারফিউ ভঙ্গ করে শাটডাউন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমাদের সে বক্তব্য কোন মিডিয়ায় প্রচার করতে দেওয়া হয় নাই। সে রাতে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম অত্যাচার করা হয় এ ঘোষণার জন্য এবং আন্দোলন প্রত্যাহার ও সরকারের সাথে আলোচনায় বসার জন্য জবরদস্তি করা হয়।
ছাত্রজনতা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল। সরকার দমন-পীড়ন করে সেটিকে সংঘাত ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এবার এরকম পরিস্থিতি হলে কারো জন্যই পরিণতি ভালো হবে না। পরবর্তীতে ডিবি অফিস থেকেও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমাদের অনশন ও রাজপথে আন্দোলনের কারণে সে পরিকল্পনা সফল হয়নি।

আমরা এখনও শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে চাই। আমরা কোন সহিংসতা, প্রতিহিংসা ও প্রাণনাশ চাই না। নিরাপত্তা বাহিনীকেও এরজন্য সহযোগিতা করতে হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রাজপথে দেখা গেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এর দায়ভার নিতে হবে। তবে রক্ত ঝরলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আমরা ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের দমন-পীড়ন, প্রোপাগাণ্ডা ও ষড়যন্ত্র করে এ আন্দোলন থামানো যাবে না। জরুরি অবস্থা বা কারফিউ ছাত্র-নাগরিক মেনে নিবে না। শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি চাইলে গুলি ও হামলা করার নির্দেশ বন্ধ করতে হবে। অসহযোগ আন্দোলনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে।
খুনি সরকারের কাছে বিচার চাওয়া বা সংলাপে বসারও সুযোগ আর নেই। ক্ষমা চাওয়ার সময়ও পার হয়ে গেছে। যখন সময় ছিল তখন সরকার ব্লক রেইড দিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করেছে, নির্যাতন করেছে। আখতার হোসেন, আরিফ সোহেলসহ রাজবন্দীদের কারাগারে রেখে আমরা কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবো না।
নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান থাকবে খুনি সরকারকে সমর্থন না দিয়ে ছাত্র-নাগরিকের পাশে থাকুন। সরকার জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ালে সেই সরকারের হুকুম শুনতে আপনারা আর বাধ্য নন। ছাত্রদের সাথে মিছিলে যোগ দিন। আমরা পুলিশ নয়, হুকুমের আসামীকে কাঠগড়ায় দাঁড়া করাতে চাই। নিরাপত্তা বাহিনীকে মিছিলে যোগদানের আহ্বান থাকবে।
সবাই শান্তিপূর্ণভাবে আজকের বিক্ষোভ ও আগামীকাল থেকে অসহযোগ কর্মসূচী সফল করুন।
“বাংলাদেশের জনগণ,
নেমে আসুন, নেমে পড়ুন”
“বাংলাদেশের অভিভাবক,
নেমে আসুন, নেমে পড়ুন”
“বাংলাদেশের শিক্ষকেরা,
নেমে আসুন, নেমে পড়ুন”
“বাংলাদেশের শ্রমিকেরা
নেমে আসুন, নেমে পড়ুন”
অসহযোগ আন্দোলনে সকল গার্মেন্টস ও শিল্প কলকারখানা বন্ধ থাকবে। গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর— সকল শ্রমিকদের আহ্বান করছি আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য। ছাত্রবন্ধুরা শ্রমিকদের সঙ্গে করে নিয়ে আসুন মিছিলে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সর্বস্তরের জনগণ নেমে এসেছিল। অসংখ্য শ্রমিক ও গরিব মানুষ আন্দোলনে শহীদ হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীরা শ্রমিক ও সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে নেমেছে। সকলধরনের বৈষম্য দূর করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে একটি নতুন বাংলাদেশ আমাদের তৈরি করতে হবে।’’







