কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে আছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ (১১ আগস্ট) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে। প্রদেশটির গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১০টি ভবনে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে সেখানে হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। রিসারালদার রাজধানী পেরেইরাতেও ভূমিকম্পের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে পেরেইরার একটি ভবনের ফাটলধরা সম্মুখভাগ ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে এলাকায় ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে আসেন। এছাড়া ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটি ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে।
এদিকে ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্পটির কারণে কলম্বিয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধসে পড়া ভবনগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। আতঙ্কিত অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। শক্তিশালী এই কম্পন দেশের বিভিন্ন বড় শহরেও অনুভূত হয়।






