ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার স্থগিত চেয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ ১৬০ বিশ্বনেতা ও নোবেল বিজয়ীর বিবৃতির সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে ড. ইউনূসের মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, একজন ব্যক্তির পক্ষে এত এত বিবৃতি দেওয়ার কী আছে? তারা এখানে বিশেষজ্ঞ পাঠাক। তারা এসে দেখুক সবকিছু ঠিক আছে কি না। তারা দেখুক কোথাও কোনো অনিয়ম আছে কি না।
মঙ্গলবার সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে বলেন: ভদ্র লোকের যদি আত্মবিশ্বাস থাকতো তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না। আমাদের দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সব কিছু এটা নিয়ম মতো চলে। কেউ যদি ট্যাক্স না দেয় আর শ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ করে, আর শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যদি লেবার কোর্টে মামলা করা হয় তাহলে আমাদের কি সেই হাত আছে যে সে মামলা বন্ধ করে দেবো। আমাদের দেশে চলমান মামলা নিয়ে আলোচনাই করা হয় না। এটা সাব-জুডিস। এখানে আমি কে মামলা প্রত্যাহার করার।এখানে আমার কোন অধিকারটা আছে। বিচার ব্যবস্থা তো সম্পূর্ণ স্বাধীন।
তিনি আরও বলেন: ট্যাক্স ফাঁকি দিলে ফেরতও দিতে হবে, মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে যেখান থেকেই অর্থ পাওনা সরকার আদায় করবেই। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিটি আইন ও নিয়ম-নীতিতে বাংলাদেশ সই করেছে, যারা ড. ইউনূসের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলে সেসব দেশ সই করেনি।
ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্য পদ চেয়েও পাওয়া বিরোধীদল গুলোর এমন প্রচারণার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: বাংলাদেশ কিছু চেয়ে পাবে না এটা কিন্তু ঠিক না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা আমাদের যে মর্যাদাটা তুলে ধরেছি, তাতে করে আমাদের সে সুযোগটা আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: এটা বিএনপি বলতে পারে কারণ তাদের আমলে ওটাই ছিলো। বাংলাদেশের কোন অবস্থানই ছিলো না বিশ্বে। বাংলাদেশ মানেই ছিলো দুর্বিক্ষের দেশ, ঝড়ের দেশ, বন্যার দেশ, হাত পেতে চলার দেশ, ভিক্ষা চাওয়ার দেশ। এখন অন্তত বাংলাদেশ ভিক্ষা চাওয়ার দেশ না এটা সবাই জানে।
এর আগে, বিশ্ব অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশের নিয়ন্ত্রণকারী পাঁচ দেশের জোট ব্রিকসের সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন শেখ হাসিনা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে যোগ দেন।
২৩ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী হোটেল হিলটন স্যান্ডটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ব্রিকসের বর্তমান চেয়ারম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট আয়োজিত ‘রাষ্ট্রীয় ভোজ’ এ যোগ দেন শেখ হাসিনা।
পরদিন ‘ব্রিকস-ফ্রেন্ডস অব ব্রিকস লিডার্স ডায়লগ (ব্রিকস- আফ্রিকা আউটরিচ অ্যান্ড দ্য ব্রিকস প্লাস ডায়লগ) এ ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ব্রিকস’র সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তৃতা দেন শেখ হাসিনা।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে রোববার সকালে ঢাকায় ফেরেন শেখ হাসিনা।








